font-help

এই পোস্টটি 1,004 বার দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি জেলার প্রাথমিক শির বর্তমান চালচিত্র। অম্লান চাকমা

ভৌগলিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা, বহুভাষী জনগোষ্টীর অস্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রোপট সব মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে যথার্থই আলাদা। কিন্তু জাতীয় শিনীতির আদলেই সমতলের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন স্তর বিশিষ্ট যেমন : প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শি ব্যবস্থা বিদ্যমান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদ্যালয়ে পাঠ দানের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বাংলা। সঙ্গত কারণেই আদিবাসী শিশুরা ভাষাগত তারতাম্যের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে জ্ঞানার্জনে সমস্যার মুখোমুখি হয়। যারফলে শুরুতেই আকর্ষণহীন হয়ে পড়ে তাদের শি গ্রহণ। এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারী পর্যায়ে বিশেষত: এনজিও দের মাধ্যমে মাতৃভাষায় শি বা বহুভাষিক শি ইত্যাদি উদ্যোগ বেশ জোরেশোরেই নিতে দেখা যাচ্ছে।

 

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট পাঁচ ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মাধ্যমে শি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সেগুলি হলো (১)সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (২) রেজিষ্ট্রিকৃত ( নথির্ভুক্ত) প্রাথমকি বিদ্যালয় (৩) নন- রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় (৪) স্যাটেলাইট বা কমউিনিটি বিদ্যালয় এবং (৫) মাদ্রাসা পরিচালিত বিদ্যালয়। এছাড়া ব্যাপক আকারে শিশুদের এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশ গ্রহণের সুযোগ দানের জন্য আরো কিছু কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। তারমধ্যে  ইউনিসেফ এর সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর পরিচালনায় পাড়া কেন্দ্র ভিত্তিক শি কার্যক্রম এবং উপ আনুষ্টানিক শি  বা নন ফরমাল এডুকেশন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিশুদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রাঙ্গামাটি জেলার মোট ৪৯০ টি পাড়া কেন্দ্রে বিগত এপ্রিল ২০০৬ সাল থেকে জাতি সংঘ এর বিশ্ব খাদ্য সংস্থা স্থানীয় এনজিওসমূহের মাধ্যমে প্রতিদিন পুষ্টি মান সম্পন্ন ঐঊই – ঐরময ঊহবৎমু ইরংপঁরঃ বিতরণ  করছে।  অন্য দুই পার্বত্য জেলায় ও এ কার্যক্রম একইভাবে চলছে। পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহ এবং প্রাথমিক শি ব্যবস্থা : রাঙ্গামাটি জেলা তথা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক শি সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলেই আবশ্যকীয়ভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের কথা সর্বাগ্রে ধর্তব্যের মধ্যে আনতে হবে। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠনের পর থেকে পরিষদসমূহের কাছে পার্বত্য জেলার প্রাথমিক শি বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্ট্রগ্রাম জন সংহতি সমিতির সঙ্গে সরকারের পার্বত্য চট্ট্রগ্রাম চুক্তি সারিত হবার এই পরিষদ আরো অধিক কার্যকারিতা লাভ করে। এই চুক্তির ‘খ’ খন্ডে ৩৩ খ ২ অনুচ্ছেদে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য ‘‘ মাতৃভাষায় ম্যাধমে প্রাথমিক শি ’’ কে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। এই চুক্তিকে ভিত্তি করে ১৯৯৮ ইং সালে জাতীয় সংসদে চারটি আইন পাস করা হয়। আইনগুলি হচ্ছে –

১। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ ইং

২। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ ইং

১। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ ইং

১। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ ইং

 

পার্বত্য চট্ট্রগ্রামে প্রাথমিক শি ব্যবস্থা মূলত: জেলা পরিষদ এর মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে থাকে। যেসব েেত্র জেলা পরিষদ ভূমিকা পালন করে থাকে তা হলো –

 

১। পরিবীণ (মনিটরিং) এবং বিদ্যালয় অবকাঠামো নির্মাণ

২। শিক নিয়োগ এবং বদলী

৩। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের জন্য প্রশিণ এবং

৪। বিদ্যালয়ে পুস্তক এবং আসবাবপত্র সরবরাহ

 

উপরোল্লিখিত নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে কমিউনিটি বিদ্যালয় এর অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার এবং কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিকদের সম্মানী ভাতা প্রদান করে থাকে। জেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায় যে, ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত মোট  ৪৬ টি কমিউনিটি স্কুলের মোট ১৫৬ শিককে ৫০০ এবং ১,০০০ টাকা হারে পর্যায়ক্রমে সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শি অফিস এসব কার্যক্রমের পরিবীণ এর দায়িত্ব পালন করে থাকে।

 

বর্তমান প্রোপটে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে অন্যান্য অনেক সমস্যার মধ্যেও এখনো নিম্নলিখিত প্রধান প্রদান সমস্যাসমূহ বিদ্যমান রয়েছে। এ সব সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে রাঙামাটি তথা পার্বত্য জেলার প্রাথমিক শি কার্যক্রম আরো বেগবান হবে এবং শির মানোন্নয়ন  অনেকটা সম্ভব হবে। সেগুলি হলো ঃ

 

১। অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রয়োজন অনুপাতে শিক স্বল্পতা রয়েছে। বিশেষত দুর্গম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমকি বিদ্যালয়সমূহে এ সংকট এখনো প্রকট। দ এবং অভিজ্ঞ শিকগণ সাধারণত সদর উপজেলা বা অপোকৃত সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নিয়ে থাকতে চান। এ সমস্যার সমাধান কল্পে যদিও এখন উপজেলা, ইউনিয়ন, মৌজা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার প্রদানের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে। তবে এখনো শিক সংকটের বিষয়টি সমাধান করতে সময়ের প্রয়োজন। আশার কথা যে, বিগত কয়েক বছর ধরে জেলা পরিষদের মাধ্যমে মোটামুটি সব মহলের সহায়তায় শিক বর্গা প্রথা বা চৎড়ীু ঞবধপযরহম এর ন্যায় অনৈতিক কাজটি কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে।

২। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রত্যেক উপজেলায় এখনো উপজেলা শি কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। অধিকাংশ উপজেলায় একজন সহকারী উপজেলা শি কর্মকর্তার মাধ্যমে উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ১০ টি উপজেলার মধ্যে বর্তমানে কেবল বরকল, রাঙামাটি সদর এবং কাউখালীতে উপজেলা শি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুপাতে সহকারী উপজেলা শি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দানের বিধান থাকলেও বর্তমানে সব উপজেলাতেই এ সংকট বিদ্যমান রয়েছে।

৩। অধিকাংশ বিদ্যালয়েই প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়সমূহে এ সমস্যাটি আরো প্রকট।

৪। বিদ্যালয়সমূহে এখনো পরিবেশ বান্ধব শ্রেণী ক, খেলার মাঠ, ুদ্র আয়তনের লাইব্রেরী এবং প্রয়োজনীয় খেলাধুলার সামগ্রীর অভাব রযেছে।

৫। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক/ শিকিদের জন্য বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা নেই। এটি দুর্গম অঞ্চলে শিকদের যোগদানে অনাগ্রহের প্রধান একটি কারণ। হ্রদ এলাকায় নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত বোটের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। রাঙামাটি সদর উপজেলার মধ্যেও এমন অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে শুধুমাত্র সাপ্তাহিক দিন ব্যতীত অন্যান্য দিন নিয়মিত বোট চলাচল করেনা। এ বিষয়টি  জেলা পরিষদ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে পারে।

৬।  জুম চাষের সময় বা জুমের ফসল তোলার সময় জুম নির্ভর পরিবারের ছেলে মেয়েদের দীর্ঘ দুই তিন মাস সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয়। এর ফলে তাদের লেখাপড়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া পার্বত্য এলাকার সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় অধিবাসীদের ঐতিহ্য এবং প্রথার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে নীতি নির্ধারক মহল ঈদ, দূর্গাপূজার, বর্ষাকালীন ছুটির সময় শি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা বা খোলা রাখার বিষয়টিও পুনঃ বিবেচনা করতে পারেন।

৭। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয এর সরকারীকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজিত ভূমি সমস্যাকে ধারণায় রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং সরকারীকরণের েেত্র জমির যে সিলিং, ছাত্র- ছাত্রীর সংখ্যা, শিক- শিকির সংখ্যা ইত্যাদি পুনঃ নির্ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এছাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলির েেত্র ছাত্রদের সংখ্যা অনুপাতে শিক নিয়োগের নীতির পরিবর্তন এনে পার্বত্য জেলা সমূহে নিয়োগের েেত্র প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমপে পাঁচ জন শিক নিয়োগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

৮। বেশির ভাগ েেত্র শিকদেরকে পাঠদান করার পাশাপাশি সরকার কর্তৃক অর্পিত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়। যা তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়টি সতর্কতার সাথে পুনর্বার যাচাই করার দরকার আছে।

৯। গ্রাম পর্যায়ে শি সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচী গ্রহণে সরকারের প থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নেই। পথ নাটক, পাবলিসিটি, প্রামাণ্য চিত্র ইত্যাদির মাধ্যমে সরকার প্রচারণা চালাতে পারে। এেেত্র বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসমূহকে সরকার সহযোগী হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।

১০।  শিক এবং শি কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সকলের জন্য এখনো পর্যন্ত সরকারীভাবে পর্যাপ্ত প্রশিণ প্রদানের তেমন কোন উদ্যোগ পরিলতি হয়নি। বিশেষ করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক অভিভাবক সমিতি  এবং এলাকার নেতৃবৃন্দের এবং সচেতন যুবকদের জন্য মনিটরিং, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিণ প্রদানের উদ্যোগ জরুরী ভিত্তিতে নেয়া প্রয়োজন।

 

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বেসরকারী উদ্যোগে পরিচালিত প্রাথমিক শি কার্যক্রমসমূহ ঃ

 

পার্বত্য চুক্তিত্তোর অপোকৃত শান্তিময় পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে শি েেত্র বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে দেশীয়, আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় সংস্থাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেেিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ব্রাক ১৯৯৮ সালে প্রাথমিক শির উপর তাদের নিজস্ব ঘড়হ ঋড়ৎসধষ চৎরসধৎু ঊফঁপধঃরড়হ (ঘঋচঊ)  কর্মসূচী শুরু করে। স্থানীয় এনজিওদের  তারা এ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে। ব্রাকের এই কর্মসূচী এখনো অব্যাহত আছে। সম্প্রতি ২০০৮ সাল থেকে ব্রাক রাঙামাটির কাউখালী এবং খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলা মোট ১০টি (৫+৫) বাংলা ভাষার পাশাপাশি চাকমা ভাষা এবং বর্ণমালা ব্যবহারের মাধ্যমে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিদানের কাজ পরীমূলকভাবে শুরু করেছে।

 

২০০১ সাল থেকে ঈধৎব ইধহমষধফবংয তিন পার্বত্য জেলায় প্রাথমিক শির উন্নয়ন এর জন্য এনজিওদের আর্থিক এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কমিউনিটি বিদ্যালয়ে শি পদ্ধতির ইতিবাচক পরিবর্তনের ল্য নিয়ে কাজ শুরু করে। রাঙামাটি জেলার স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা সিআইপিডি, গ্রীন হিল, টংগ্যা; বান্দবানের গ্রাউস, তৈমু ও ম্রোচেট এবং খাগড়াছড়িতে জাবারাং কল্যাণ সংস্থা এ কর্মসূচীর বাস্তবায়নকারী  সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। সরকারী প্রাথমিক এবং কমিউনিটি বিদ্যালয়ে শিকদের পাঠদানে পরীমূলক কিছু পদ্ধতির প্রয়োগ, শিক- ছাত্রের মধ্যেকার প্রথাগত সম্পর্কের গুণগত পরিবর্তন, ক্রিয়াশীল শিণ, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমতা বৃদ্ধি, শিক অভিভাবক সমিতির সাথে নিয়মিত বৈঠক, মা দল বা মাদারস্ গ্র“প সংগঠন প্রভূত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পাদন ইত্যাদি ছিলো এ প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কাজ। ২০০৪ সালে এ প্রকল্পের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।  তবে এ প্রকল্পটি  প্রকল্পের উপকারভোগী, অংশীজন এবং অন্যান্যদের মাঝেও যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সম হয়। এ প্রকল্প কার্যক্রম এর অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে পরবর্তীতে বেশ কিছু স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা প্রাথমিক শির উপর কাজ করে যাচ্ছে।

 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় গধহঁংযবৎ ঔড়হহড় ঋড়ঁহফধঃরড়হ (গঔঋ) এর অর্থায়নে বিগত ২০০৬ সাল থেকে টংগ্যা চৎরসধৎু ঊফঁপধঃরড়হ রহ জবসড়ঃব অৎবধং ড়ভ জধহমধসধঃর ঐরষষ ঞৎধপঃং (চঊজঅজঐঞ) প্রকল্পের আওতায় বরকল এবং বিলাইছড়ি উপজেলার মোট ২০টি কমিউনিটি (বরকল ১০+ বিলাইছড়ি ১০) স্কুলে ২(দুই) জন করে শিকের সম্মানী প্রদান, শিকদের প্রশিণ, স্কুল কেন্দ্রিক বিভিন্ন কমিটিসমূহের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক, কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শির মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে বিদ্যালয় এর স্থায়ীত্বশীলতার জন্য স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আয় বর্ধক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ এবং এর জন্য প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। প্রকল্পে প্রথম পর্যায় বিগত জুন ২০০৯ সালে শেষ হবার পর সম্প্রতি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় চলতি বছর থেকে শুরু হচ্ছে এবং পরবর্তী তিন বছর এ কার্যক্রম চলবে।

 

গ্রীন হিল মে ২০০৮ সাল থেকে ঝঅগচজঊঞও – ঝঁংঃধরহরহম অপপড়ঁহঃধনরষরঃু ভড়ৎ গধংং চবড়ঢ়ষবং জরমযঃং, ঊয়ঁরঃু ঃযৎড়ঁময ওহঃবমৎরঃু প্রকল্প এর দ্বিতীয় পর্যায় এর মাধ্যমে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পাঁচটি উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মোট ৬০ বিদ্যালয়ে (৪০টি বেসরকারী ও ২০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তন্মধ্যে গ্রীন হিল ৩৫টি এবং উক্ত প্রকল্পে তাদের সহযোগী সংস্থা পাড়া ৮টি, ইমডো ৮টি এবং শাইনিং হিল ৯টি বিদ্যালয়ে কাজ করছে। এ প্রকল্পের কার্যক্রমগুলোর মধ্যে মূল দু’টি কাজ হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোতে শিক সহায়তা প্রদান এবং বেসরকারী বিদ্যালয়ের এসএমসিদের সাথে আয় বর্ধন মূলক কার্যক্রম। প্রকল্পের প থেকে সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিটি বেসরকারী বিদ্যালয়ে ২ জন এবং সরকারী বিদ্যালয়ে ১ জন করে মোট ১০০ জন স্থানীয় শিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

রাঙ্গামাটিতে প্রাথমিক শি নিয়ে কাজ করছে এ ধরণের আর একটি উন্নয়ন সংস্থা হচ্ছে ঈড়সসঁহরঃু উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঈবহঃৎব (ঈঙউঊঈ)। ২০০০ সালের  নভেম্বর থেকে ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা উঅঘওউঅ এর সার্বিক সহযোগিতায় ‘উবাবষড়ঢ়সবহঃ ওহঃবৎবহঃরড়হ ভড়ৎ ঃযব অফাধহপবসবহঃ ড়ভ ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃং ধহফ রঃং ওহযধনরঃধহঃং’ প্রকল্পের আওতায় বরকল এবং রাঙামাটি সদর উপজেলার এখনো পর্যন্ত মোট ২০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা এবং মারমা আদিবাসী ভাষায় শি প্রদান করছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০০ এর কাছাকাছি ছাত্র-ছাত্রীকে মাতৃভাষার মাধ্যমে শি প্রদান করা হচ্ছে। ঢাকা আহসানিয়া মিশন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ৩০টি স্কুলে উপ আনুষ্ঠানিক শি কার্যক্রম শুরু করে ২০০৭ সালের মে মাস থেকে। ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে বালুখালী থেকে ৭, জিপতলী ৫, বন্দুকভাঙা ১২, কুতুকছড়ি ২, মগবান ৩ এবং সাপছড়ি থেকে ১টি স্কুল এ প্রকল্প কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রধান তিনটি ল্য হচ্ছে উপানুষ্ঠানিক শি কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার কাজে কমিউনিটির সমতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয় বহির্ভুত শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শি প্রদান করা এবং আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শি প্রদানকারীদের মধ্যে কার্যকর নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা। এ প্রকল্পের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে ৬-১২ বছর বয়সী ঝরে পড়া বা পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য আলাদা ক্যাম্প এর ব্যবস্থা। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পরীমূলকভাবে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটি ২০১০ সালের শেষ নাগাদ সমাপ্ত হবে।

 

টঘউচ-ঈঐঞউঋ এর সহায়তায় রাঙামাটির স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ঝঃৎধঃবমরপ অপঃরড়হ ঝড়পরবঃু (ঝঅঝ) এপ্রিল ২০০৮ সাল থেকে বিলাইছড়ি এবং রাজস্থলী উপজেলার মোট ৬টি ইউনিয়নে ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ ঃড় ইধংরপ ঊফঁপধঃরড়হ কার্যক্রম শুরু করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় উভয় উপজেলা থেকে ২৫ টি করে মোট ৫০ টি বিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের নীতিমালা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট উপজেলা থেকে ৩টি করে সরকারী বিদ্যালয়, ২টি করে রেজিষ্ট্রিকৃত বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি বিদ্যালয়, উপজেলা ভিত্তিক আদিবাসী অধ্যুষিত গঁষঃর খরহমঁধষ ঊফঁপধঃরড়হ ঝপযড়ড়ষ, দ্বি-ভাষিক আদিবাসী বিদ্যালয় নির্বাচন করা হয়েছে। চৎব চৎরসধৎু বিদ্যালয়ে আদিবাসী জনসংখ্যার অবস্থান অনুযায়ী মাতৃভাষার মাধ্যমে শি প্রদান করা হয়। যেমনঃ রাজস্থলীর খিয়াং অধুষ্যিত অঞ্চলে খিয়াং ভাষায়, বিলাইছড়ির চাকমা অধ্যুষিত এলাকায় চাকমা ভাষায় চৎব চৎরসধৎু পর্যায়ে বাচ্চাদের পাঠ দান করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের অধীনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এর মাধ্যমে মোট ১৩০ জন শিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। শিকদের সম্মানী ভাতা জেলা পরিষদ এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তাদের সমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া ও প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপজেলায় ৩ ল টাকা ব্যয়ে ১০ টি করে ২০ ি ট  স্কুল নির্মাণ করা হবে।

 

এই প্রবন্ধে আমি কেবল রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রাথমিক শি ব্যবস্থার উপর সংপ্তি পরিসরে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি।  তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, অন্য দুই পার্বত্য জেলার প্রাথমিক শি ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র ও এ জেলা থেকে ভিন্ন হবার কোন বিশেষ কারণ নেই। সরকারী এবং বেসরকারী উভয় প্রতিষ্ঠানই যার যার অবস্থান থেকে এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে জিও এবং এনজিওদের মধ্যে এেেত্র সমন্বয় আরো বাড়ানো প্রয়োজন।  এমনকি যেসব এনজিও প্রাথমিক শির উপর কাজ করছেন তাদের নিজেদের  মধ্যে ও সে ধরনের কোন যোগাযোগ বা সমন্বয় নেই।  জেলা পরিষদ বা জেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে আয়োজিত এনজিও সমন্বয় সভায় প্রত্যেক এনজিও যার যার কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। কিন্তু সেখানে প্রকল্প ভিত্তিক সংপ্তি আলোচনা হয় বিধায় শি কার্যক্রম বিষয়ে বিশদ আলোচনার সুযোগ কম থাকে। যেহেতু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এনজিও প্রাথমিক শির উপর কাজ করছে সেজন্য এসব এনজিওদের নিজেদের মধ্যেও প্রত্যেক মাসে না হলেও দুই মাস অন্তর আলাদা একটি সমন্বয় সভা করা দরকার। অত্রাঞ্চলের সার্বিক প্রোপট বিবেচনায় এবং দ্বৈততা এবং অন্যান্য বিষয়গুলো পরিহার করতে এ ধরনের একটি সমন্বয় সভা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের  প্রতিনিধিগণ এ সভায় সমন্বয়ক বা সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করতে পারেন। পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাথমিক শি অফিসের কোন কর্মকর্তাকে এ সমন্বয়কের ভূমিকা পালনের জন্য দায়িত্ব প্রদান করতে পারে। এটি আরো অধিক কার্যকর হবে যদি জেলা পরিষদ এর সম্মানিত সদস্য যিনি প্রাথমিক শি বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত বা আহবায়কের ভূমিকা পালন করেন তিনি যদি নিজে এ সভায় উপস্থিত থেকে মুখ্য সঞ্চলকের ভূমিকা পালন করেন।

বিদ্রঃ- এই লেখাটি ২০১০ ইং সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত স্ববন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

 

এই বিভাগের আরো পোস্ট

Tags: