font-help

এই পোস্টটি 1,143 বার দেখা হয়েছে

একটি কিশোর সংগঠনের বিঝু সংকলন। নন্দলাল শর্মা

নন্দলাল শর্মা
একটি কিশোর সংগঠনের বিঝু সংকলন

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রান্তিক উপজেলা জুরাছড়ি। ‘সুবলং’ নদীর সীমাহীন আঁকাবাঁকা চলার পথের পাশে এক তীরভূমি বনযোগীছড়া গ্রাম। বনযোগীছড়া গ্রামটির নাম আজ পার্বত্য অঞ্চলেই বহুল আলোচিত নয়, এ অঞ্চলের বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানেও সুপরিচিত। আর এ পরিচয়ের সেতু হল বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি। ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এক ঝাঁক উদ্যোগী, উৎসাহী, কুশলী ও প্রতিভাদীপ্ত কিশোর কিশোরীর উদ্যোগে এই সমিতি গঠিত হয়। সাহিত্য-সংস্কৃতিমনা এই কিশোর কিশোরীগণ যথার্থই জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। সুন্দর ও সুশীল জাতি গঠনে তাদের মনন চিন্তা শহরবাসীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

 

 

রাজধানী থেকে অনেক দূরে, এমনকি জেলা সদর রাঙ্গামাটি থেকেও অনেক দূর পার্বত্য অঞ্চলের একটি গ্রাম। অথচ এই গ্রামের কিশোর কিশোরীগণ ইতোমধ্যে প্রকাশনা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে আমার মত অনেককেই হতবাক করে দিয়েছে। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রতি কতটা নিবেদিত প্রাণ হলে এটা সম্ভবপর হয় তা সহজেই অনুমেয়। বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি ২০০১ সন থেকে  ২০১০ সন পর্যন্ত দশটি বিঝু সংকলন প্রকাশ করেছে । সংেেপ সংকলনগুলোর পরিচিতি উপস্থাপন করা গেল।
১. বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতির প্রথম সংকলন ‘রানজুনি’ (রংধনু)। ২০০১ সনে এটি বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়। এটি সম্পাদনা করেছেন সুগম চাকমা। বনযোগীছড়ার চারজন কীর্তিমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সংকলনটি উৎসর্গিত হয়েছে। এঁরা হলেন স্নেহ কুমার চাকমা, নূতন মণি চাকমা, পূর্ণ মোহন চাকমা এবং মদন মণি কার্বারী। এই উৎসর্গ পত্র উদ্যোক্তাদের আত্মানুসন্ধান ও ঐতিহ্যপ্রীতির স্মারক। সংকলনে চৌদ্দটি শুভেচ্ছা বাণী রয়েছে।
সংকলনের প্রথম প্রবন্ধ সঞ্জীব দ্রং  এর  ‘আমার  সন্তানদের  গল্প  শুনতে  দিন’। আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ উপলে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ জনসংযোগ বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিশ্বের সকল ছাত্র-ছাত্রীর উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে যে চিঠি লিখেছিলেন সেটির বঙ্গানুবাদ ভূমিকা ও উপসংহার সহ সঞ্জীব দ্রং উপস্থাপন করেছেন। আদিবাসীদের সুন্দর জীবনবোধ, সততা, সংগীত ও নৃত্যগীতের কথা দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা জানে না বলে লেখকের অভিমত যথার্থ। মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ‘বুইসুক : একটি আনন্দের দিন’ প্রবন্ধে ত্রিপুরা জাতির চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উদ্যাপনের বর্ণনা দিয়েছেন। পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিঝু’। চাকমা সমাজে বিঝু উদ্যাপনের কথা লিখেছেন রাখী চাকমা ‘বিঝু ও আজকের পার্বত্য চট্টগ্রাম’ প্রবন্ধে। সুগম চাকমা ‘প্রসঙ্গ : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ প্রবন্ধে ‘ুদ্র ুদ্র জাতিসমূহ বসবাস এর স্থানে প্রাথমিক শিা পর্যন্ত (৫ম শ্রেণী পর্যন্ত) মাতৃভাষায় পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা বাস্তবানুগ ও যথার্থ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা চালু আছে, আমাদের দেশেও তা চালু হওয়া প্রয়োজন। শ্যামল মিত্র চাকমার ‘বিপন্ন যুব সমাজ’ প্রবন্ধে যুব সমাজকে অবয়ের হাত থেকে রার আশা ব্যক্ত হয়েছে। অরিন্দম চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বৈসাবি ও সংস্কৃতি’ প্রবন্ধে জুম্ম সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রার জন্য এর সংগ্রহ, সংরণ ও বিকাশ ঘটানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সংকলনের অন্যান্য প্রবন্ধ হচ্ছে কেতন চাকমার ‘বিপন্ন জুম্ম জাতি’, বিধু চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পাংখো স্বনির্ভর এক উপজাতি’, উদয় শংকর চাকমার ‘স্নেহ কুমার স্মৃতি সেই বনযোগীছড়া’, মেঘবর্ণ চাকমার ‘বান্দরবান ঘুরে এসে’ এবং মনোরমা দেবীর ‘নারীর ধর্ম’।

সংকলনে চাকমা জাতির গণনা পদ্ধতি এবং মারমাদের প্রবাদ প্রবচন সংকলন করেছেন যথাক্রমে ঝিমিলানী চাকমা ও শৈমং শিং মারমা। বাংলা কবিতা লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা, উজ্জ্বল কুমার চাকমা, পহেল চাকমা, অর্ণব চাকমা, মো. হাবিবুর রহমান, জনেল চাকমা, প্রজ্ঞাবর্ধন চাকমা, শ্রীমতি তালুকদার, বাবুল কান্তি চাকমা, রতন মনি চাকমা, দিলীপ কুমার চাকমা, সুগম চাকমা, টিটো চাকমা, রাজু চাকমা, জয়মতি তালুকদার, হিতো চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা; তঞ্চঙ্গ্যা কবিতা লিখেছেন রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা; চাকমা কবিতা লিখেছেন বিকিরণ চাকমা, মৃত্তিকা চাকমা, রনেল চাকমা, নোবেল চাকমা, বিপাশা দেওয়ান, নির্মল চাকমা, জ্ঞানকীর্তি চাকমা, উত্তম চাকমা, তনয় দেওয়ান, রুমি চাকমা, নিকেল চাকমা, অম্বু বিকাশ চাকমা, সাধনানন্দ চাকমা এবং চাকমা গান লিখেছেন অরিন্দম চাকমা। শেষাংশে সংযোজিত হয়েছে স্নেহ কুমার চাকমা, নূতন মনি চাকমা, মদন মনি কার্বারী এবং পূর্ণ মোহন চাকমার সংপ্তি জীবনী।

২. ২০০২ সনের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয় বৈসাবি সংকলন অরিন্দম চাকমা সম্পাদিত ‘হ্লে মোনর গিরিত্তি’। ১২৮ পৃষ্ঠার এই অনুপম সংকলনটির মূল্য ত্রিশ টাকা; এর প্রচ্ছদ শিল্পী মং সি মারমা। সংকলনটি উৎসর্গ করা হয়েছে জুরাছড়ির চারজন প্রয়াত কৃতী সন্তানেরÑ মালতী বালা চাকমা, রামচন্দ্র চাকমা, ভুবনজয় চাকমা ও দয়ামোহন চাকমারÑউদ্দেশ্যে। সংকলনে এ চারজনের সংপ্তি জীবনী ছাড়াও আছে তিনটি শুভেচ্ছা বাণী, সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য এবং সম্পাদকীয়।

‘হ্লে মোনর গিরিত্তি’ (সবুজ পাহাড়ের সংসার) সংকলনের প্রথম প্রবন্ধ নন্দলাল শর্মার ‘প্রসঙ্গ : বিঝু উৎসব’। ‘কান্নার শেষ নেই’ নিবন্ধে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। রাজদরবার থেকে খেতাব প্রাপ্তরা সাধারণ প্রজাদের উপর যে মতা খাটাতেন তার উল্লেখ করে তিনি আতংকজনক দুর্যোগ সহ বিভিন্ন দুর্যোগের সরস বর্ণনা দিয়েছেন। পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা ‘বিষু’ প্রবন্ধে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন। বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘জুরাছড়ির স্মৃতি’ জুরাছড়িতে কর্মরত থাকাকালীন লেখকের স্মৃতির অনুপম চিত্র। সুগম চাকমার ‘জুরাছড়ি : বাংলাদেশের অন্যতম ুদ্র উপজেলা’ উপজেলাটির সংপ্তি পরিচিতি। বণিতা খীসার ‘জাতীয় জীবনে জুরাছড়িবাসীদের ভূমিকা’ অত্যন্ত সংপ্তি রচনা। ‘জুম্ম নারী শিার প্রয়োজনীয়তা’ প্রবন্ধে জয়মতি তালুকদার গ্রামাঞ্চলের জুম্ম নারীদের শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরে তাদের শিা লাভের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। অপরাপর বাংলা গদ্য রচনা হচ্ছে রিমি চাকমার ‘আমার উপলব্ধি’, পাবেল চাকমার ‘সংগ্রামই জুম্ম জাতির অস্তিত্ব রার একমাত্র পথ’, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘বিষুর আনন্দ’ এবং মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরার ‘এক আদিবাসীর জীবন কাহিনী’। চাকমা ভাষায় প্রবন্ধ লিখেছেন দেবপ্রিয় চাকমা (আদিবাসী জুম্ম পাহাড়ী উপজাতি নয়)। চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন শিশির চাকমা, মুক্তা চাকমা ও জগৎ জ্যোতি চাকমা। চাকমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, তরুণ কুমার চাকমা, মৃত্তিকা চাকমা, নিরুপল চাকমা, শিখা চাকমা, তনয় দেওয়ান, দিলীপ চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা, বিকিরণ চাকমা, রিপরিপ চাকমা, কিশলয় চাকমা, নিকোলাই চাঙমা, রাজু চাকমা, প্রকাশ চাকমা, ঝিমিলানী চাকমা, রতন মুনি চাকমা, স্টালিন চাকমা, শিশির বসু চাকমা, দুদুবি চাঙমা, বৈশাখী চাকমা, শ্যামলিকা চাকমা, অর্ণব চাকমা, দিপালী চাকমা, সম্ভুনাথ চাকমা, বিকাশ চন্দ্র চাকমা, চাকমা সীমা দেওয়ান, বিভা চাকমা, শ্রীমতি তালুকদার, সুগম চাকমা, স্মৃতি জীবন তালুকদার, নিকেল চাকমা ও ভূদেব চাকমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন শৈ মং সিং মারমা, এ খিং, চিত্র মোহন চাকমা, হালিম আজাদ, সুনীল কুমার কার্বারী, বিধু ভূষণ চাকমা, বৈশাখী চাকমা, সুমির চাকমা, রিপন চাকমা, মণিকা চাকমা, প্রাণ বিকাশ চাকমা, সুবল বিজয় চাকমা, আশাপূর্ণ চাকমা, নিরু চাকমা, এস.জে. চাকমা, চীনা চাকমা, প্রদীপ শংকর চাকমা, সুবর্ণা চাকমা, সাগর ত্রিপুরা, অমর বিকাশ চাকমা, বিপাশা দেওয়ান, কাজল চাকমা, অপারিকা চাকমা, স্বতেশ চাকমা, সাধনানন্দ চাকমা, পান্না চাকমা, রতন মণি চাকমা, মং সি মারমা, ব্রাইট চাকমা, ইমা খীসা, রিটন চাকমা, রুবি চাকমা, ধীরা তালুকদার, শ্যামল মিত্র চাকমা, সুফল চাকমা ও আপ্র“সি চৌধুরী; চাক কবিতা (বঙ্গানুবাদসহ) লিখেছেন মং ম্রা থোয়াই চাক; মারমা কবিতা লিখেছেন থোয়াই চিং মাং মার্মা; চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন পহেল চাকমা; চাকমা নাটিকা (এক্কান পুঝর জ্যোপ) লিখেছেন রনেল চাঙমা।

৩. ২০০৩ সনের বিঝু উপলে বিঝু সংকলন ‘খুযুঙ’ (খিয়াং শব্দ, যার অর্থ পাহাড়) প্রকাশিত হয়েছে দিলীপ কুমার চাকমার সম্পাদনায়। ১১২ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য পঞ্চাশ টাকা।

এই সংকলনে বারটি বাংলা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধগুলো হচ্ছে মংক্যশোয়েনু নেভী’র ‘বৈসাবি উৎসবের প্রণোদনা’, হালিম আজাদের ‘অধিকার অর্জন ও মুক্তির কাণ্ডারী হোক বৈসাবি উৎসব’, সুনীতি বিকাশ চাকমার ‘বিঝু নিয়ে কিছু ভাবনা’, সঞ্জীব দ্রং-এর ‘আদিবাসীদের মাতৃভাষা : বৈচিত্র্য ও ভিন্নতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সংস্কৃতি চাই’, কুমার প্রীতীশ বল-এর ‘ইতিহাসের আলোকে পার্বত্য শান্তিচুক্তি’, নন্দলাল শর্মার ‘চাকমা প্রবাদে লোকজীবন’, প্রভাংশু ত্রিপুরার ‘নীরমহল’, কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমার ‘বুদ্ধের ধর্মে মৈত্রী’, জগৎ জ্যোতি চাকমার ‘কবি মৃত্তিকা চাকমার প্রকাশনা এবং কিছু কথা’, অরিন্দম চাকমার ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিাদান সুযোগ নয় অধিকার’, বিধু চাকমার ‘হাজার বছরের ফাতিতাংঙ্যা চুগ বরকল পাহাড়ে’ এবং সুগম চাকমার ‘চিত্র মোহন চাকমা : মফস্বলের ধুলোয় পড়ে থাকা এক সাহিত্যিক’ (অবহেলিত গুণীজন-১)।

সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, চিত্র মোহন চাকমা, রনেল চাঙমা, নির্মল কান্তি চাকমা, কিশলয় চাকমা, মনোরঞ্জন চাকমা, এম. ও. চাকমা, গয়াসুর চাকমা, স্মৃতি জীবন তালুকদার, লগ্ন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বৃষকেতু চাকমা, তনয় দেওয়ান, রিপরিপ চাকমা, প্রজ্ঞা অংকুর চাকমা, টিটো চাকমা, উৎপলা চাকমা, সুকাম দেওয়ান, চাঁপা দেওয়ান এবং মন্টু বিকাশ চাকমা। চাকমা ভাষায় প্রবন্ধ লিখেছেন ভবন্তু বিকাশ চাকমা (কানমন্ত্র) ও নীল বরন চাকমা (হারে ফেলের জাদর ভাচ্ছানি): ত্রিপুরা কবিতা লিখেছেন মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরা; বাংলায় রম্য রচনা লিখেছেন বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও অন্নদা মঙ্গল চাকমা এবং বাংলা গল্প লিখেছেন দীপনা চাকমা। অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শরদিন্দু শেখর চাকমার (প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত) সাাৎকার গ্রহণ করেছেন সুগম চাকমা। বাংলা কবিতা লিখেছেন বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা, ল্যারা চাকমা ও অপারিকা চাকমা; চাকমা গল্প লিখেছেন ভেঘাত্যা চাঙমা ও গেঙখুলী চাকমা; চাকমা গান লিখেছেন চীনা চাকমা ও রোনাল চাকমা; চাকমা প্রবাদ সংকলন করেছেন হিতো চাকমা এবং বিঝু ছড়া লিখেছেন পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা। পরিশেষে জুরাছড়ি উপজেলার আলোকিত মানুষ শিরোনামে জুরাছড়ি উপজেলার চৌদ্দজন কৃতী সন্তানের জীবনী সংকলিত হয়েছে।
৪. ২০০৪ সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি বৈসাবি (বিঝু) সংকলন ‘অখ্যইক’ (মারমা শব্দ, অর্থ হচ্ছে ভালবাসা) প্রকাশ করেছে। ৮০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন রতন মুনি চাকমা; শুভেচ্ছা মূল্য চল্লিশ টাকা।

এই সংকলনে সাতটি বাংলা প্রবন্ধ, একটি ইংরেজি প্রবন্ধ ও একটি চাকমা প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। প্রবন্ধগুলো হচ্ছে- প্রগতি খীসার ‘বিঝু সেকাল-একাল’, নন্দলাল শর্মার ‘চাকমা প্রবাদে নারী’, নিরঞ্জন চাকমার ‘আদিবাসী সমাজে জুম চাষ : জুম শব্দের উৎপত্তি প্রসঙ্গে’, সুগম চাকমার ‘জুমচাষ : পার্বত্য চট্টগ্রামের বন উজাড়ের জন্য কতটুকু দায়ী’, প্রিয়দর্শী খীসার ‘চাংমা বর্ণমালা’, সমীরণ দেওয়ানের ‘কালের বিবর্তনের ধারায় বৈসাবি’, শ্যামল মিত্র চাকমার ‘জুম্ম ছাত্র সমাজ কোন পথে’; সদানন্দ চাকমা সুহৃদের উঐঅখ কটগঅজ ঈঐঅকগঅ : অ চঙজঞজঅণঅখ ঙঋ অঘ অখখ জঙটঘউঊজ ঞঊঅঈঐঊজ এবং দেবপ্রিয় চাঙমার ‘হিল চাদিগাঙ্র লেঘিয়াউনর জীবনের নিরাপত্তা কুদু’।

সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, মৃত্তিকা চাকমা, জগৎ জ্যোতি চাকমা, বারেন্দ্র লাল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, রনেল চাঙমা, টিটো চাকমা চিত্তি, রিপরিপ চাঙমা ও ননা চাঙমা; চাকমা ভাষায় রম্যরচনা (ঘরজামেই) লিখেছেন অমলেন্দু বিকাশ চাকমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন সদানন্দ চাকমা সুহৃদ; লগ্নকুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও নির্মল কান্তি চাকমা; রম্য রচনা লিখেছেন অন্নদা মঙ্গল চাকমা; চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষায় গান লিখেছেন যথাক্রমে চিত্রমোহন চাকমা, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা ও মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। শেষ দুটি গানের বঙ্গানুবাদও দেয়া হয়েছে। বাংলা গল্প লিখেছেন প্রভাংশু ত্রিপুরা ও চিত্রমোহন চাকমা; চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন শ্রীবীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও ভেঘাত্যা চাঙমা। চাকমা ভাষায় ছড়া লিখেছেন পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা ও নিকোলাই চাঙমা; জুমুল্যান্ড পালা লিখেছেন অরিন্দম চাকমা। পরিশেষে জুরাছড়ি উপজেলার আলোকিত মানুষ দ্বিতীয় পর্বে দুজন আলোকিত মানুষের জীবনী প্রকাশিত হয়েছে।

৫. বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি থেকে ২০০৫ সালে ‘বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু’ সংকলন ‘তোকজিং’ (ভোর) প্রকাশিত হয়েছে। ৮০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন জয়মতি তালুকদার ফেন্সী। শুভেচ্ছা মূল্য পঞ্চাশ টাকা। সংকলনটি মহেন্দ্র লাল চাকমাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

এই সংকলনে প্রকাশিত আটটি বাংলা প্রবন্ধ, একটি ইংরেজি প্রবন্ধ ও দুটি চাকমা প্রবন্ধ হচ্ছে : নন্দলাল শর্মার ‘প্রসঙ্গ : চাকমা কবিতা’, প্রভাংশু ত্রিপুরার ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও দেশের প্রচলিত শিা ক্যারিকুলামে আদিবাসী মাতৃভাষায় পাঠদানের সম্ভাবনা’, প্রগতি খীসা ধজার ‘বাংলাদেশের আদিবাসী জাতিসত্তা’, মং ছেন চীং (মংছিন) এর ‘বাংলাদেশের পার্বত্য উপজাতীয়দের জীবনযাত্রার পদ্ধতি, অরিন্দম চাকমার ‘কেমন আছে থানছির আদিবাসী শিশুরা’, সুগম চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের হেডম্যান ও কার্বারীদের গুরুত্ব’, শোভা ত্রিপুরার ‘কাব্য সাহিত্যে ত্রিপুরাদের অবদান’, হারাধন চক্রবর্তী (রাজু)র ‘লেখকের দৃষ্টিতে বিঝু’, সদানন্দ চাকমার চজওঘঞওঘএ গওঝঞঅকঊ ঞঐঊ গঙঝঞ ঞজঅটগঅঞওঈ ঊঢচঊজওঊঘঈঊ ঋঙজ অ ডজওঞঊজ এবং দেবপ্রিয় চাকমার ‘২০৫০ সালের একদিন’ ও বারেন্দ্র লাল চাকমার ‘কথা দ্বি কথা কধ চাই’।

এই সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন মৃত্তিকা চাকমা, শিশির চাকমা, জগৎ জ্যোতি চাকমা, তনয় দেওয়ান ইন্দু, মুক্তা চাকমা, নির্মল কান্তি চাঙমা, অনিল বরণ চাকমা, টিটো চাকমা, (চিত্তি) পারসী চাকমা ও ফুলসদক চাকমা; ত্রিপুরা কবিতা লিখেছেন মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা; বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, চিত্রমোহন চাকমা, হাফিজ রশিদ খান, বিধু চাকমা, প্রিয়াংকা (পুতুল), সাহারা ও পলি চাকমা; চাকমা গল্প লিখেছেন প্রতাঙ চাকমা এবং ছড়া লিখেছেন পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা ও রনেল চাঙমা। এ সংকলনে একান্ত সাাৎকার দিয়েছেন প্রবীণ লেখক শ্রীবীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। শেষাংশে জুরাছড়ি উপজেলার আলোকিত চারজন ব্যক্তির জীবনী সংযোজিত হয়েছে।

৬. ২০০৬ সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি প্রকাশ করেছে বৈসাবি সংকলন ‘কেং’। ৮০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির শুভেচ্ছা মূল্য পঞ্চাশ টাকা; সম্পাদনা করেছেন নির্মল কান্তি চাকমা। সংকলনটি উৎসর্গ করা হয়েছে জুরাছড়ির আলোকিত ব্যক্তিত্ব সদ্যপ্রয়াত ধীরেন্দ্র লাল চাকমাকে।

‘কেং’ (খুমি শব্দ, অর্থ সিঁড়ি)-এ প্রকাশিত ছয়টি বাংলা ও দুটি চাকমা প্রবন্ধ হচ্ছে-সঞ্জীব দ্রং এর ‘গারো পাহাড়ে দুঃখ কষ্টের মধ্যে আশাভরা কিছু মানুষের মুখ’, নন্দলাল শর্মার ‘বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন চর্চায় চাকমা জাতি’, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘জুরাছড়ি (সুবলং ও বিলাইছড়ি রাইখ্যং) দুটো পাশাপাশি উপজেলার জাতীয় জীবনে তাদের ভূমিকা’, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার ‘কিভাবে এল বাংলা নববর্ষ এবং আমাদের চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব’, মংছেন চীং (মংচিন)-এর ‘রাখাইন নববর্ষ’, বিন্দু চাকমার ‘পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত সাহিত্যিক চিত্রমোহন চাকমা’ এবং মৃত্তিকা চাঙমার ‘ইরুক চাকমা সাহিত্যের আধুনিক কবিতে’ ও দেবপ্রিয় চাঙমার ‘জাদি দেজত সোবনর ঝাক’।

এই সংকলনে ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন সুগম চাকমা; বাংলা গল্প লিখেছেন প্রগতি খীসা; আর্নেস্ট হোমিংওয়ের গল্প চাকমা ভাষায় অনুবাদ করেছেন রনেল চাঙমা; স্মৃতিকথা লিখেছেন চিত্রমোহন চাকমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, হাফিজ রশিদ খান, এ.কে.এম. মনিরুল ইসলাম, প্রতিভা ত্রিপুরা, নতুন ময় চাকমা, মন্টি দেওয়ান, সাধনানন্দ চাকমা ও জোনাকী তঞ্চঙ্গ্যা; চাকমা কবিতা লিখেছেন বারেন্দ্রলাল চাঙমা, নরোত্তম খীসা, ভবন্ত বিকাশ চাঙমা, নির্মল কান্তি চাঙমা, রিপরিপ চাঙমা ও তনয় দেওয়ান ইন্দু; চাকমা গান লিখেছেন প্রিয়দর্শী খীসা ও সম্ভুনাথ চাঙমা, পরিশেষে ঝিমিত ঝিমিত চাকমার সাাৎকার সংকলিত হয়েছে।

৭. ২০০৭ সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি প্রকাশ করেছে বৈসুক সাংগ্রাই বিঝু সংকলন ‘ছাবা’। সংকলনটির সম্পাদক তনয় দেওয়ান ইন্দু। আশি পৃষ্ঠার সংকলনটির মূল্য ষাট টাকা। এটি উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীমতী হীরালতা দেওয়ানকে।

এই সংকলনে প্রকাশিত সাতটি বাংলা প্রবন্ধ হলÑঅরিন্দম চাকমার ‘একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম: বনযোগীছড়া স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’, নন্দলাল শর্মার ‘চাকমা পুথি সংগ্রহ প্রসঙ্গে’, আনন্দ মিত্র চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম : আদিবাসী সংস্কৃতি সংকট’, বীরকুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘ষষ্ঠ বৌদ্ধধর্ম সঙ্গীতি (সম্মেলন) এবং আমাদের ভূমিকা’ সুগত চাকমার ‘প্রসঙ্গ : পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের মাতৃভাষা’, ঠেগাচান চাকমার ‘অলাখ’ এবং কুমুদ বিকাশ চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান আদিবাসীদের মধ্যে সর্বপ্রথম এন্ট্রান্স পাস (যৌথ) ও প্রথম ডিপুটি ইন্সপেক্টর অব স্কুল অবিনাশ চন্দ্র দেওয়ান এর সংপ্তি জীবন বৃত্তান্ত’। সংকলনে চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন মুক্তা চাকমা, প্রতাঙ্ চাকমা, দেবপ্রিয় চাকমা ও রনেল চাকমা; ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা; চাকমা কবিতা লিখেছেন তরুণ কুমার চাকমা, শ্যামল তালুকদার, জগৎজ্যোতি চাকমা, অমলেন্দু বিকাশ চাকমা, বারেন্দ্রলাল চাকমা, প্রেমলাল চাকমা ও শ্রীপ্রগতি খীসা; তঞ্চঙ্গ্যা কবিতা লিখেছেন অজয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা; ত্রিপুরা কবিতা লিখেছেন মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরা; চাকমা কবিতা লিখেছেন রিপরিপ চাকমা, রিপন চাঙমা, পূর্ণ বিকাশ চাকমা,অরুণদর্শী চাকমা, তনয় দেওয়ান ইন্দু, তেঘাত্যা চাঙ্মা, প্রকাশ চাকমা, রিলেন চাকমা, মৃত্তিকা চাঙমা, রিএলী চাকমা, অরিন্দম চাঙমা, উদেন চাকমা; চাকমা গান লিখেছেন শংকর চাকমা এবং বাংলা কবিতা লিখেছেন বচন নকরেক, এ কে এম মনিরুল ইসলাম, দেবোত্তম খীসা ও এ্যালি চাকমা।

৮. ২০০৯ সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি প্রকাশ করেছে সুগম চাকমা সম্পাদিত বিঝু সংকলন ‘জুনিপুক’। দু’শ আশি পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য দু’শত টাকা। এটি উৎসর্গ করা হয়েছে মুক্তা চাকমা বেবীকে।

‘জুনিপুক’-এ প্রকাশিত তিনটি চাকমা প্রবন্ধ হলÑরিপন চাঙমার ‘সু.গো.নো.পা.দা.র. আ.বা.জ’, দেবপ্রিয় চাঙমার ‘ভারদত বুক অঝার চাঙমা জাত’ এবং প্রিয়ংবদা চাঙমা পিয়ার ‘হদক্কানি পুজোর’; তিনটি ইংরেজি প্রবন্ধ হল-জঁঢ়ধুধহ উবধিহ এর অফসরহরংঃৎধঃরাব ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃং, ঘড়নবষ ঈযধশসধ ঞধসবংয-এর ইরলঁ রং ড়ঁৎ ঈঁষঃঁৎব এবং অঢ়ধৎধলরঃধ ঈযধশসধ এর ঝড়সবফধু, ঝড়সবধিু. সংকলনে প্রকাশিত বিশটি বাংলা প্রবন্ধ হলÑজ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার ‘মানব জীবনে আত্মীয়তার কাঠামো (আকার আকৃতি), মঙ্গল কুমার চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’, জুয়েল বিন জহিরের ‘বিশ্বায়ন ও প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠী : আগ্রাসনের বিপরীতে আপন আপন অস্তিত্ব আর জ্ঞানকাণ্ডের ঐতিহাসিক বিরোধ’, প্রতিম রায় পাম্পুর ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন ও নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে’, মনোজ বাহাদুর মানজির ‘পার্বত্য আদিবাসী গুর্খা ও বর্তমান প্রেতি’, ড. সেলু বাসিতের ‘পাংখোয়া ভাষা ও সাহিত্য প্রসঙ্গ এবং শাওন ফরিদ’, প্রভাংশু ত্রিপুরার ‘ত্রিপুরা রাজ দরবারে বাঙ্গালী মনীষীবৃন্দ’, কুমার প্রীতীশ বলের ‘মে দিবসের উৎস এবং প্রান্তিক শ্রমজীবী শিশুর শিা’, প্রফেসর মংসানু চৌধুরীর ‘ছাত্রশিক সম্পর্কের ধারণা : প্রেতি পার্বত্য চট্টগ্রাম’, শ্রীপ্রগতি খীসার ‘মহাজোটের দিন বদলের সনদ অতঃপর আদিবাসীদের ভবিষ্যৎ’, সাদিয়া আফরিনের ‘অপরত্বকরণ ও জাতিগত ভগ্নাংশ’, প্লিনা চাকমার ‘আদিবাসী নারীর রাজনৈতিক মতায়ন এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা’, আনন্দমিত্র চাকমার ‘বিপন্ন সময় : বর্তমান প্রোপট’, তন্দ্রা চাকমার ‘নারী ও শিশু অধিকার’, শাওন ফরিদের ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে হাতীর খেদা বৃত্তান্ত’, সুসময় চাকমার ‘অজগর সাপের কেন বিষ নেই’, নির্মল কান্তি চাকমার ‘একটি পিছিয়ে পড়া ইউনিয়নের করুণ চিত্র’, শোভন চাকমার ‘শিতি আদিবাসী ছাত্রসমাজ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম’, রূপন চাকমার ‘প্রত্যেক ব্যক্তির মেডিটেশন অনুশীলন করা প্রয়োজন’ এবং রূপন চাকমার ‘প্রসঙ্গ : ডরশরঢ়বফরধ

‘জুনিপুক’ এ চাকমা কবিতা লিখেছেন তরুণ কুমার চাকমা, জয়মতি তালুকদার, জগৎ জ্যোতি চাঙমা, বারেন্দ্র লাল চাঙমা, স্মৃতি জীবন তালুকদার, নমদীশ চাকমা, কিশলয় চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা, ব্রাইট চাকমা, কৃতি চাকমা, শ্রীঅমলেন্দু বিকাশ চাকমা, নিকোলাই চাঙমা, রুনুক চাকমা, নীলবরণ চাকমা, বিবর্তন চাকমা, পহেল চাকমা, লিটন চাকমা, রীএলি চাকমা সুজল, সমরবিকাশ চাকমা, মুক্তা চাকমা, ত্রিজিনাদ চাকমা, সুশীল চাকমা, রতনমনি চাকমা, রিপরিপ চাকমা, রিজেপ চাঙমা ও জুনান চাকমা। ‘জুনিপুকে’ বাংলা গল্প লিখেছেন প্রতাঙ চাকমা ও বীরকুমার চাকমা; দুটি বিশেষ রচনা লিখেছেন আজাদ বুলবুল ও এ্যালী চাকমা; তঞ্চঙ্গ্যা কবিতা লিখেছেন বীরকুমার তঞ্চঙ্গ্যা, অজয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও চন্দ্রসেন তঞ্চঙ্গ্যা; চাকমা গল্প লিখেছেন দ্যানিস চাকমা, কে. ভি. দেবাশীষ চাকমা, সরোজ কান্তি চাকমা, দেবোত্তম খীসা ও রনেল চাঙমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, নীলবরণ চাকমা, মুক্তা চাকমা, এ.কে.এম মনিরুল ইসলাম, রাজকুমার চাকমা, ধনীতা দেওয়ান, নিপন চাকমা, নিতু প্রসাদ চাকমা ও সুফলা চাকমা; স্মৃতিকথা ও ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন সুপ্রিয় তালুকদার, কুমুদ বিকাশ চাকমা, প্রিভেন্টি চাকমা, ঝুনু চাকমা; সমালোচনা প্রবন্ধ ‘একটি কিশোর সংগঠনের সাফল্যের এক দশক’ লিখেছেন নন্দলাল শর্মা; চাকমা গান লিখেছেন চিত্রমোহন চাকমা, তনয় দেওয়ান ইন্দু, পঠন চাকমা, মৃত্তিকা চাঙমা ও ডা. সম্ভুনাথ চাকমা।
এছাড়া ‘বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কি প্রকৃতপে আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রা করা সম্ভব?’ সম্পর্কে এগার জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামত, চিত্রমোহন চাকমার সাাৎকার এবং ‘জুরাছড়ি উপজেলার আলোকিত মানুষ’ অংশে উপজেলার দুজন আলোকিত ব্যক্তির পরিচিতি প্রকাশিত হয়েছে।

৯. বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি ২০১০ সালের বিঝু সংকলন ‘স্ববন’ প্রকাশ করেছে। সংকলনটির সম্পাদক মুকেশ চাকমা, সহ সম্পাদক লিটন চাকমা অন্নদা এবং প্রচ্ছদশিল্পী অবিনাশ চাকমা। ১২০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য দু’শ টাকা।

সংকলনে প্রকাশিত বারটি প্রবন্ধ হচ্ছে প্রফেসর মংসানু চৌধুরীর ‘মানবাধিকার ও আদিবাসী নারী : প্রেতি পার্বত্য চট্রগ্রাম’, নন্দলাল শর্মার ‘চাকমা লোককথায় লোকজীবন’, ইলিরা দেওয়ানের ‘আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিার গাঁথুনি কবে শুরু হবে?’, অম্লান চাকমার ‘রাঙ্গামাটি জেলার প্রাথমিক শিার বর্তমান চালচিত্র’, কুমার প্রীতিশ বলের ‘উত্তর জনপদের আদিবাসীদের বর্ষবরণ’, শ্রীরনক চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রোপট : আদিবাসী বিতর্ক’, শোভন চাকমার ‘জুম্ম জনগণের নেতাদের প্রতি আমার সংপ্তি খোলা চিঠি’, মনোজ বাহাদুরের ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা ও এ প্রসঙ্গে একটি আলোচনা’, শুভ্রজ্যোতি চাকমার ‘আদিবাসী মেলা প্রসঙ্গে কিছু কথা’, ‘শ্রীশ্যামল চাকমার ‘বিলুপ্তির পথে জুম্ম ঐতিহ্য’, সুগম চাকমার ‘প্রযুক্তি, তারুণ্য ও আগামী’ এবং ড. সেলু বাসিতের ‘জুমিয়াদের সুরা : জাতীয় প্রবৃদ্ধির সূচক এবং পাহাড়ের সম্পদ সম্ভাবনা’।

সংকলনে চাঙমা কবিতা লিখেছেন শিশির চাকমা, বিরবিচ্যে, মৃত্তিকা চাকমা, তরুণ কুমার চাকমা, বারেন্দ্র লাল চাকমা, প্রকাশ চাঙমা, নিকোলাই চাঙমা, ত্রিজিনাদ চাঙমা, নির্মল কান্তি চাকমা, মেমোরী চাকমা, মুকেশ চাকমা, সুদীপ্ত চাকমা মিকাতো, দেবোত্তম চাকমা, রীএলি চাকমা (সুজল), চিত্রামল্লিকা চাঙমা, রিলেন চাঙমা, ফুলসদক, নমদীশ চাঙমা, অমলেন্দু বিকাশ চাকমা, হিরা লাল চাকমা, ব্রাইট চাকমা, আলোময় চাঙমা ও কিশলয় চাকমা; চাঙমা গল্প লিখেছেন কে.ভি দেবাশীষ চাঙমা ও জগৎ জ্যোতি চাঙমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন চিত্রমোহন চাকমা, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, মমিন মানব, শ্যামল তালুকদার, শ্রীপ্রগতি খীসা, নীলবরণ চাঙমা, মাজেদা আক্তার ও রিপরিপ চাঙমা; ভ্রমণ কাহিনী ‘ভুটানের স্মৃতি’ লিখেছেন সুপ্রিয় তালুকদার এবং চাঙমা গান লিখেছেন বুদ্ধরতœ ভিু, পঠন চাকমা ও স্মৃতিজীবন তালুকদার।

২০০১-২০১০ দশ বছরে নয়টি মূল্যবান সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৮ সাল ছাড়া প্রতি বছর বিঝু সংকলন প্রকাশিত হয়েছে; প্রতিটি সংকলনে মূল্যবান প্রবন্ধ, ছোটগল্প, নাটিকা, কবিতা, গান, লোকসাহিত্য সংকলিত হয়েছে। সংকলনে নবীন-প্রবীণ সকল শ্রেণীর লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। চাকমা ভাষায় লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গান সংকলনগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। চাকমা কবিতার এখন সমৃদ্ধির যুগ। গদ্য চর্চা প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করেছে। এই পর্যায়ে উত্তরণে লেখকদের শ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় প্রশংসনীয়। তাদের রচনা একদিন চাকমা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করবে।

মফস্বলে বসে সাহিত্যচর্চা, বিশেষ করে প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করা খুবই কঠিন। কিন্তু এ কঠিন দায়িত্ব পালনে সাফল্য অর্জন করেছে এক ঝাঁক তরুণ তরুণী। বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি চিরকিশোর থাকুক; তাদের অনুসরণে অন্যান্য গ্রামেও গড়ে উঠুক এ ধরনের কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি। পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের আদিবাসী সাহিত্য চর্চা ও বাংলা সাহিত্য চর্চা আরো বেগবান  হোক। বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতির সদস্যসদস্যাদের বিঝুর শুভেচ্ছা।

বিদ্রঃ- এই লেখাটি ২০১১ ইং সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত জাংফাতে  প্রকাশিত হয়।

এই বিভাগের আরো পোস্ট

Tags: