font-help

এই পোস্টটি 1,229 বার দেখা হয়েছে

একটি কিশোর সংগঠনের সাফল্যে এক দশক। নন্দলাল শর্মা

নন্দলাল শর্মা
একটি কিশোর সংগঠনের সাফল্যে এক দশক

এক
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার একটি প্রান্তিক উপজেলা জুরাছড়ি। ওপারে ভারতের মিজোরাম। উত্তরে বরকল, দক্ষিণ বিলাইছড়ি আর পশ্চিমে কাপ্তাই উপজেলা। ‘সুবলং’ নদীর সীমাহীন আঁকাবাকা চলার পথের পাশে এক তীরভূমি বনযোগীছড়া গ্রাম। বনযোগীছড়া গ্রামটির নাম আজ পার্বত্য অঞ্চলেই বহুল আলোচিত নয়, এ অঞ্চলের বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে ও সুপরিচিত। আর এ পরিচয়ের সেতু হল বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি। ১৯৯৯ সালে এক ঝাঁক উদ্যেগী, উৎসাহী ও কুশলী প্রতিভাদীপ্ত কিশোর কিশোরীর উদ্যোগে এই সমিতি গঠিত হয়। সাহিত্য-সংস্কৃতিমনা এই কিশোর কিশোরী যথার্থই জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। সুন্দর ও সুশীল জাতি গঠনে তাদের মনন চিন্তা শহরবাসীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
রাজধানী থেকে অনেক দূরে, এমনকি জেলা সদর রাঙ্গামাটি থেকেও অনেক দূর পার্বত্য অঞ্চলের একটি গ্রাম। অথচ এই গ্রামের কিশোর কিশোরীগন ইতোমধ্যে বারটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশ করে আমার মত অনেককেই হতবাক করে দিয়েছে। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রতি কতটা নিবেদিত প্রাণ হলে এটা সম্ভবপর হয় তা সহজেই অনুমেয়। শহরাঞ্চলে নিয়ত নতুন নতুন  সাহিত্য সংস্কৃতির গড়ে উঠে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই দলাদলিতে তা অপমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। একটি বা দুটির বেশি সংকলন বের করা সম্ভবপর হয় না। বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি ২০০১ সনের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সনের পর্যন্ত বিরানব্বই মাসের ব্যবধানে ছোট বড় একুশটি সংকলন এবং একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীদের বিস্মিত করেছে। তাদের ধৈর্য, নিষ্ঠা, সংস্কৃতিপ্রেম, আদর্শ ও মননশীলতা প্রশাংসার দাবিদার। সংেেপ সংকলনগুলোর পরিচিতি উপস্থাপন করা গেল।

দুই
বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যান সমিতির প্রথম সংকলন ‘রানজুনি’ (রংধনু)। ২০০১ সনে এটি বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়। এটি সম্পাদনা করেছেন সুগম চাকমা। বনযোগীছড়া চারজন ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সংকলনটি উৎসর্গিত হয়েছে। এরা হলেন স্নেহ কুমার চাকমা, নূতন মনি চাকমা, পূর্ণ মোহন চাকমা এবং মদন মনি  কার্বারী এই উৎসর্গ পত্র উদোক্তদের আতœানুসন্ধান ও ঐতিহ্যপ্রীতির স্বার। সংকলন চৌদ্দটি শুভেচ্ছা বানী রয়েছে।
সংকলনের প্রথম প্রবন্ধ সঞ্জীব দ্রং এর ‘আমার সন্তানদের গল্প শুনতে দিন’। আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ উপলে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ জনসংযোগ বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল বিশ্বের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ইংরেজীতে যে চিঠি লিখেছিলেন সেটির বঙ্গানুবাদ ভূমিকা ও উপসংহার সহ সঞ্জীব দ্রং উপস্থাপন করেছেন। আদিবাসীদের সুন্দর জীবনবোধ, সততা, সংগীত ও নৃত্যগীতের কথা দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা জানেনা বলে লেখকের অভিমত যথার্থ মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ‘বুইসুক’ একটি আনন্দের দিন প্রবন্ধ ত্রিপুরা জাতির চৈত্রসংক্রাান্তি ও নববর্ষ উদযাপনের বর্ণনা দিয়েছেন। পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিঝু’ চাকমা সমাজে বিঝু উদযাপনের কথা লিখেছেন রাখী  চাকমা ‘বিঝু ও আজকের পার্বত্য চট্টগ্রাম’ প্রবন্ধ। সুগম চাকমা ‘ প্রসঙ্গে; আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ প্রবন্ধ ‘ুদ্র ুদ্র জাতিসমূহ বসবাস এর স্থানে প্রাথমিক শিা পর্যন্ত (৫ম শ্রেণী পর্যন্ত) মাতৃভাষায় পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা বাস্তবানুগ ও যর্থাথ । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা চালু আছে, আমাদের দেশেও তা চালু হওয়া প্রয়োজন। শ্যামল মিত্র চাকমার ‘ বিপন্ন যুব সমাজ’ প্রবন্ধে যুব সমাজকে অবয়ের হাত থেকে রার আশা ব্যক্ত হয়েছে। অরিন্দম চাকমার ‘ পার্বত্য চট্টগ্রাম বৈসাবি ও সংস্কৃতি’ প্রবন্ধে জুম্ম সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রার জন্য এর সংগ্রহ, সংরণ ও বিকাশ ঘটানোর উপর  গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সংকলনের অন্যান্য প্রবন্ধ হচ্ছে কেতন চাকমার ‘বিপন্ন জুম্ম জাতি’ বিধু চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পাংখো স্বনির্ভর এক উপজাতি’, উদয় শংকর চাকমার ‘স্নেহ কুমার স্মৃতি সেই বনযোগীছড়া, মেঘবর্ণ চাকমার ‘বান্দরবান ঘুরে এসে’ এবং মনোরমা দেবীর ‘নারীর ধর্ম’।
সংকলনে চাকমা জাতির গননা পদ্ধতি এবং মারমাদের প্রবাদ প্রবচন সংকলন করেছেন যথাক্রমে ঝিমিলানী চাকমা ও শৈ মং শিং মারমা। বাংলা কবিতা লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা, উজ্জ্বল কুমার চাকমা, পহেল চাকমা, অর্নব চাকমা, মোঃ হাবিবুর রহমান, জনেল চাকমা, প্রজ্ঞাবর্ধন চাকমা, শ্রীমতি তালুকদার, বাবুল কান্তি চাকমা, রতন মনি চাকমা, দিলীপ কুমার চাকমা, সুগম চাকমা, টিটো চাকমা, রাজু চাকমা, জয়মতি তালুকদার, হিতো চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা কবিতা লিখেছেন রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা কবিতা লিখেছেন বিকিরন চাকমা, মৃত্তিকা চাকমা, রনেল চাঙমা, নোবেল চাকমা, বিপাশা দেওয়ান, নির্মল চাঙমা, জ্ঞানকীর্তি চাকমা, উত্তম চাকমা, তনয় দেওয়ান, রুমি চাকমা, নিকেল চাকমা, অম্বু বিকাশ চাকমা, সাধনানন্দ চাকমা ও অরিন্দম চাকমা। শেষাংশে সংযোজিত হয়েছে স্নেহ কুমার চাকমা, নূতন মনি চাকমা, মদন মনি কার্বারী এবং পূর্ণ মোহন চাকমার সংপ্তি জীবনী।

তিন,
বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলে ২০০১ সালের ৯ ই আগষ্ট প্রকাশিত হয়েছে সুগম চাকমা সম্পাদিত ‘আদিবাসী’। এই সংকলনটির প্রকাশনা বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতির আত্ম সচেতনতার প্রমাণ। সম্পাদকীয় কলামে বাংলাদেশে বসবাসরত পয়তাল্লিশটি আদিবাসীর ভাষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবন বৈচিত্র্য রার আহবান জনানো হয়েছে।এই সংকলনে প্রাসঙ্গিক এগারটি মূল্যবান প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সঞ্জীব দ্রং এর ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ: আদিবাসীদের বাঁচার প্রেরণা দিয়ে যায়’ প্রবন্ধ ১৮৫৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ, কাহিনী বর্ণনার পর সাঁওতালদের বর্তমান অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। লেখকের ইতিহাস চেতনা ও মূল্যায়ন প্রশংসনীয় । ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস: কিছু কথা’ প্রবন্ধে সুগম চাকমা বাংলাদেশের বর্তমান করুণ অবস্থা তুলে ধরেছেন। তনয় দেওয়ান ‘ইকোপার্কে: উন্নয়নের নামে আদিবাসী উচ্চেদের এক ষড়যন্ত্র’ প্রবন্ধে ‘মাধবকুন্ড-মুরইছড়া’ এলাকায় প্রস্তাবিত ইকোপার্ক বাস্তবাহিত হলে প্রায় এক হাজার খাসিয়া আদিবাসী পরিবার বাস্তুহারা হয়ে পড়বে বলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্তিসঙ্গত বিরোধীতা করেছেন। ‘ত্রিপুরা জাতির ঐতিহ্য’ প্রবন্ধে মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরা  ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতির সংপ্তি আলোচনা করেছেন। ‘আদিবাসী: সম্মাননা ও অবমাননা’ প্রবন্ধে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা রাঙ্গামাটিতে যে তেইশজন গুণীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে সে সঙ্গে আরও আটজন কৃতী ব্যক্তির সংযোজনের যৌক্তিকতা দেখিয়েছেন। তবে লেখকের অসহিষ্ণুতা পীড়াদায়ক। অন্যান্য প্রবন্ধ হচ্ছে নির্মল কান্তি চাকমার ‘আদিবাসী পাংখোদের নিয়ে কিছু ‘কথা’, অরিন্দম চাকমার ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও আজকের পার্বত্য চট্টগ্রাম’, দিলীপ কুমার চাকমার ‘পৃথিবীর আদিবাসীদের নিয়ে কিছু কথা’ জগৎজ্যোতি চাকমার ‘আমরা কি অতি সংস্কৃতিমনা হচ্ছি ? কেতন চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমার পরিস্থিতি’ এবং প্রজ্ঞা অংকুর চাকমার ‘যে কথা বলা প্রয়োজন’। এছাড়া বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, মৃত্তিকা চাকমা, নিকেল চাকমা, নির্মল চাকমা, উজ্জ্বল কুমার চাকমা, চিত্র মোহন চাকমা,তনয় দেওয়ান, রাজু চাকমা রিপন চাকমা, সুখী চাকমা, বিপাশা দেওয়ান ও নিকেল চাকমা; ছড়া লিখেছেন সুগম চাকমা এবং ত্রিপুরা কবিতা (বঙ্গানুবাদসহ) লিখেছেন লেন ত্রিপুরা। ৫৬ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির প্রচ্ছদ শিল্পী প্রজ্ঞাবর্ধন চাকমা এবং মূল্য ২৫ টাকা।

চার,
২০০২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারী প্রকাশিত হয়েছে দিলীপ কুমার চাকমা সম্পাদিত কবিতা সংকলন ‘লাড়েই’ বার পৃষ্ঠার এ সংকলনটি মূল্য পাঁচ টাকা। সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা, রনেল চাঙমা, জয়মতি তালুকদার, রিপন চাঙমা, সাধনানন্দ চাকমা,তুবোল চাঙমা, সুগম চাকমা, অরিন্দম চাকমা ও পহেল চাকমা; চাকমা ছড়া লিখেছেন শ্যামল তালুকদার; বাংলা কবিতা লিখেছেন সুগম চাকমা, তনয় দেওয়ান ইন্দু, রতন চাকমা, বিনয় কুমার ত্রিপুরা,মংম্রা থোয়াই চাক, সালকামং ত্রিপুরা, চাকমা স্বরূপা খীসা ও অরিন্দম চাকমা এবং মারমা কবিতা লিখেছেন ম্যাকোওয়া।

পাঁচ
২০০২ সনের এপ্রিল মাসের প্রকাশিত হয় বৈসাবি সংকলন অরিন্দম চাকমা সম্পাদিত ‘হ্লে মোনর গিরিত্তি’। ১২৮ পৃষ্ঠার এই অনুপম সংকলনটির মূল্য ত্রিশ টাকা; এক প্রচ্ছদ শিল্পী মং সি মারমা, সংকলনটি উৎসর্গ করা হয়েছে জুরোছড়ি চারজন প্রয়াত কৃতী সন্তানের-মালতী বালা চাকমা, রামচন্দ্র চাকমা, ভূবনজয় চাকমা ও দয়া মোহন চাকমার উদ্দেশ্যে। সংকলনে আছে তিনটি শুচ্ছো বানী, সংগঠনের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের বক্তব্য এবং সম্পাদকীয়।
‘হ্লে মোনর গিরিত্তি’ (সবুজ পাহাড়ের সংসার) সংকলনের প্রথম প্রবন্ধ নন্দলাল শর্মার ‘প্রসঙ্গে; বিঝু উৎসব’। কান্নার শেষ নেই’ নিবন্ধে রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। রাজদরবার থেকে খেতাব প্রাপ্তরা সাধারন প্রজার উপর যে মতা খাটাতেন তার উলেখ করে আতংকজনক দুর্যোগ সহ বিভিন্ন দুর্যোগের সরস বর্ণনা দিয়েছেন। পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা ‘বিষু’প্রবন্ধে হিংসা বিদ্বেষ ভূলে আনন্দ উলাসে মেতে উঠার আহবান জানিয়েছেন। বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘জুরাছড়ির স্মৃতি’ জুরাছড়িতে কর্মরত থাকাকালীন লেখকের স্মৃতির অনুপম চিত্র, সুগম চাকমার ‘জুরাছড়ি:  বাংলাদেশের অন্যতম ুদ্র উপজেলা’তে উপজেলাটির সংপ্তি পরিচিতি। বনিতা খীসার ‘জাতীয় জীবনে জুরাছড়িবাসীদের ভূমিকা’ অত্যন্ত সংপ্তি রচনা। ‘জুম্ম নারী শিার প্রয়োজনীয়তা’ প্রবন্ধ জয়মতি তালুকদার গ্রামাঞ্চলের জুম্ম নারীদের শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরে তাদের শিা লাভের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। অপরাপর বাংলা গদ্য রচনা হচ্ছে রিমি চাকমার ‘আমার উপলব্ধি’, পাবেল চাকমার ‘সংগ্রামই জুম্ম জাতির অস্তিত্ব রার একমাত্র পথ’, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘বিষুর আনন্দ’ এবং মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরার ‘এক আদিবাসীর জীবন কাহিনী’। চাকমা ভাষায় প্রবন্ধে লিখেছেন দেবপ্রিয় চাকমা (আদিবাসী জুম্ম পাহাড়ী উপজাতি নয়) । গল্প লিখেছেন শিশির চাকমা, মুক্তা চাকমা ও জগৎ জ্যোতি চাকমা। চাকমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, তরুন কুমার চাকমা, মৃত্তিকা চাকমা, নিরুপম চাকমা, শিখা চাকমা, তনয় দেওয়ান, দিলীপ চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা,বিকিরন চাকমা, রিপরিপ চাকমা, কিশলয় চাকমা, নিকোলাই চাঙমা, রাজু চাকমা, প্রকাশ চাকমা, ঝিমিলানী চাকমা, রতন মনি চাকমা, স্টালিন চাকমা, শিশির বসু চাকমা, দুদুবি চাঙমা, বৈশাখী চাকমা, শ্যামলিকা চাকমা, অর্নব চাকমা, দিপালী চাকমা, সম্ভুনাথ চাকমা, বিকাশ চন্দ্র চাকমা, চাকমা সীমা দেওয়ান, বিভা চাকমা, শ্র্রীমতি তালুকদার,সুগম চাকমা, স্মৃতি জীবন তালুকদার, নিকেল চাকমা ও ভুদেব চাকমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন শৈমং সিং মারমা, এখিং, চিত্র মোহন চাকমা, হালিম আজাদ, সুনীল কুমার কার্বারী, বিধু ভূষন চাকমা,বৈশাখী চাকমা, সুমির চাকমা, রিপন চাকমা, মনিকা চাকমা, প্রাণ বিকাশ চাকমা, সুবল বিজয় চাকমা, আশাপূর্ন চাকমা,নিরু চাকমা,এস,জে চাকমা, চীনা চাকমা, প্রদীপ শংকর চাকমা, সুর্বনা চাকমা, সাগর ত্রিপুরা, অমর বিকাশ চাকমা, বিপাশা দেওয়ান, কাজল চাকমা, অপারিকা চাকমা, স্বতেশ চাকমা, সাধনানন্দ চাকমা,পান্না চাকমা, রতন মনি চাকমা, মং সি মারমা, ব্রাইট চাকমা, ইমা খীসা, রিটন চাকমা, রুমি চাকমা, ধীরা তালুকদার,শ্যামল মিত্র চাকমা,সুফল চাকমা ও আপ্র“সি চৌধুরী; চাক কবিতা ( বঙ্গানুবাদসহ) লিখেছেন মং ম্রা থোয়াই চাক, মারমা কবিতা লিখেছেন থোয়াই চিং মাং মার্মা; চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন পহেল চাকমা; চাকমা নাটিকা ( এক্কান পুঝর জ্যোপ) লিখেছেন রনেল চাঙমা।

ছয়
ষান্মাসিক সাহিত্য সংকলন ‘বনযোগীছড়া’ নির্মল কান্তি চাকমার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ২০০২ সালের জুন মাসে। ২৮ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য দশ টাকা।
সংকলন ‘কলাম’ দুটি প্রকাশিত হয়েছে। অরিন্দম চাকমা ‘মফস্বলে সাহিত্য চর্চা নিয়ে কিছু কথা-তে মফস্বলে সাহিত্য চর্চার প্রতিন্ধকতা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যক্ত করেছেন। জয়মতি তালুকদার ‘সাহিত্য ও বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি’ কলামে সমিতির প্রকাশনাগুলো সংপ্তি পরিচিতি লিপিবদ্ধ করেছেন। সংকলন চাকমা ভাষায় ছোটগল্প লিখেছেন সুগম চাকমা, ভেঘাত্যা চাকমা, রিপন চাঙমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা, নির্মল চাকমা,অংসাহা মারমা, সমরজিৎ চাকমা এবং চাকমা কবিতা লিখেছেন কিশলয় চাকমা, তনয়া দেওয়ান, কৃতি চাকমা, রতন মনি চাকমা, দিলীপ চাকমা, হিতো চাকমা ও সাধনানন্দ চাকমা।

সাত
বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলে সাহিত্য সংকলন ‘জুম্মবী’ প্রকাশিত হয়েছে ২০০২ সালে ৯ই আগষ্ট। সম্পাদনা করেছেন অরিন্দম চাকমা, প্রচ্ছদ শিল্পী প্রজ্ঞাবর্ধন চাকমা, ৫৮ পৃষ্ঠার সংকলনটির মূল্য বিশ টাকা।
সংকলনে সাতটি বাংলা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ‘আর্ন্তজাতিক বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ প্রবন্ধে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা এ দিবসটি উদযাপনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। সঞ্জীব দ্রং ‘আদিবাসীদের কাছে আধুনিক সভ্যতার ঋণের শেষ নেই’ প্রবন্ধ আধুনিক সভ্যতার আদিবাসীদের অবদান আলোচনা করে বর্তমানে তাদের অবস্থান নির্ণয় করেছেন। সুগম চাকমা ‘ম্রো: দুর্গম’ পাহাড়ের কোলে এক আদিবাসী সম্প্রদায়’ প্রবন্ধে ম্রো বা মুরং সমাজের সংপ্তি পরিচিত দান করেছেন। ‘আদিবাসীদের ইতিকথা’ প্রবন্ধে বিধূ ভূষন চাকমা আদিবাসীদের সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখেছেন। ‘সামাজিক কর্তৃত্বের সংকট প্রসঙ্গে’ প্রবন্ধ জগৎ জ্যোতি চাকমা পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক অবকাঠামোর সাম্প্রতিক সংকটের উপর আলোকপাত করেছেন। অন্য দুটি প্রবন্ধ হল প্রজ্ঞা অংকুর চাকমার ‘১০ই নভেম্বর ৮৩ইং; ২ দশক পরে দেখা’ এবং দিলীপ কুমার চাকমার ‘বাংলাদেশের আদিবাসীরা কেমন আছে?
সংকলন চাকমা ভাষায় ছোট গল্প লিখেছেন রনেল চাঙমা ও রিপন চাঙমা; চাকমা কবিতা লিখেছেন  মৃৃত্তিকা চাকমা, রনেল চাঙমা, তনয় দেওয়ান, জয়মতি তালুকদার, ইমা খীসা, জোসেফ চাকমা, সুবল বিজয় চাকমা ও চিত্তি চাঙমা; চাকমা ভাষায় কলাম লিখেছেন ধনগুলো  চাঙমা (চাঙমা ভাজর উপন্যাস) এবং ভেঘাত্যা চাঙমা (আহ্দিবং উজেবং); বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার,চিত্র মোহন চাকমা,নির্মল কান্তি  চাকমা,অরিন্দম চাঙমা, আর চাকমা ও নীহারিকা চাকমা এবং চাকমা প্রবাদ বাক্য সংকলন করেছেন নিকেল চাকমা।

আট
বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতির তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলে একটি ‘স্মরণিকা’ প্রকাশিত হয়েছে ২০০২ সনের নভেম্বর মাসে। স্মরণিকাটি সম্পাদনা করেছেন সুগম চাকমা। স্মরণিকাটি ৩১টি শুভেচ্ছাবানীর সংকলন যারা শুভেচ্ছাবানী দিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন কবি শামসুর রহমান, জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, মনি স্বপন দেওয়ান, ডঃ মানিক লাল দেওয়ান, বীর বাহাদুর, তারাচরন চাকমা প্রমুখ।
নয়
মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ঊনবিংশ মৃত্যু বার্ষিকী উপলে ২০০২ সনের ১০ ই নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে একটি ফোন্ডার। এটি সম্পাদনা করেছেন বিপাশা দেওয়ান। এতে প্রবন্ধ লিখেছেন ভেঘাত্যা চাঙমা ( আমরা পাহাড়ীরা); বাংলা কবিতা লিখেছেন সুগম চাকমা ও চিত্র মোহন চাকমা এবং চাকমা কবিতা  লিখেছেন সুগম চাকমা ও চিত্র মোহন চাকমা এবং চাকমা কবিতা লিখেছেন জয়মতি তালুকদার, সাধনানন্দ চাকমা, ভেঘাত্যা চাঙমা, স্মৃতি জীবন তালুকদার, ধনগুলো চাঙমা ও নির্মল কান্তি চাকমা।

দশ
ষামাসিক সাহিত্য সংকলন ‘বনযোগীছড়া’ দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ২০০২ সালের ডিসেম্বর। এটি সম্পাদনা করেছেন নির্মল কান্তি চাকমা এবং নির্বাহী সম্পাদক সুগম চাকমা।
সংকলন বাংলায় কলাম লিখেছেন জ্বলি উধিম চাঙমা (প্রসঙ্গঃ উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট) ও সুনীতি বিকাশ চাকমা (জমানো কৃপনতা নাহে) এবং চাকমা ভাষায় কলাম লিখেছেন ভেঘাত্যা চাঙমা ( উদোর লইয়্যে জিংকানীর পানজালি); চাকমা ছড়া লিখেছেন রিপন চাঙমা, ইমা খীসা ও ভূদেব  চাঙমা; চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন সুগম চাকমা। ‘সাহিত্যের বিকাশের কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত’ এই প্রশ্নের প্রেেিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, মৃত্তিকা চাকমা ও তনয় দেওয়ান; সুগম চাকমা লিখেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্যঙ্গনের আলোকিত মনীষী সলিল রায়ের সংপ্তি জীবনী; নির্মল কান্তি চাকমা একটি গ্রস্থ ও একটি সংকলনের পরিচিত চয়ন করেছেন। চিত্র মোহন চাকমা সংকলন করেছেন দশটি চাকমা ধাঁধাঁ। এছাড়া আছে সংগঠন সংবাদ।

এগার
২০০৩ সালের একুশে ফেব্র“য়ারী ‘পারনি সিকালা’ (ত্রিপুরা ভাষার শব্দ, যার অর্থ পাহাড়ী যুবতী) নামে একটি ফোল্ডার প্রকাশিত হয়েছে বিপাশা দেওয়ানের সম্পাদনায়। সম্পাদকীয় নিবন্ধে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় পড়াশুনা করার সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে। এতে কবিতা লিখেছেন সুগম চাকমা, ভেঘাত্যা চাঙমা, প্রতাপ চাকমা ও রিপন চাঙমা; চাকমা গান লিখেছেন এম. ও. চাকমা এবং বাংলা কবিতা লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা,অভিলাষ চাকমা ও হাফিজ রশিদ খান।

বার
২০০৩ সনের বিঝু উপলে বিঝু সংকলন ‘খুযুঙ’ (খিয়াং শব্দ, পাহাড়) প্রকাশিত হয়েছে দিলীপ কুমার চাকমার সম্পাদনায়। ১১২ পৃষ্ঠার এ সংকলনটি মূল্য পঞ্চাশ টাকা।
এই সংকলনে বারটি বাংলা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধগুলো হচ্ছে মংক্যশোয়েনু নেভী’র ‘বৈসাবি উৎসবের প্রনোদনা’ হালিম আজাদের অধিকার অর্জন ও মুক্তির কান্ডারী হোক বৈসাবি উৎসব’, সুনীতি বিকাশ চাকমার বিঝু নিয়ে কিছু ভাবনা’,সঞ্জীব দ্রং এর আদিবাসীদের মাতৃভাষা; বৈচিত্র্য ও ভিন্নতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সংস্কৃতি চাই, কুমার প্রীতীশ বল এর ইতিহাসের আলোকে পার্বত্য শান্তিচুক্তি’, নন্দলাল শর্মার চাকমা প্রবাদে লোক জীবন’, প্রভাংশু ত্রিপুরার ‘নীরমহল’ কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমার ‘বুদ্ধের ধর্মে মৈত্রী’, জগৎ জ্যোতি চাকমা ‘কবি মৃত্তিকা চাকমার প্রকাশনা এবং কিছু কথা’, অরিন্দম চাকমার ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিাদান সুযোগ নয় অধিকার’, বিধু চাকমার ‘হাজার বছরের ফাতিতাংঙ্যা চুগ বরকল পাহাড়ে’ এবং সুগম চাকমার চিত্র মোহন চাকমা: মফস্বলের ধুলোয় পড়ে থাকা এক সাহিত্যক’ (অবহেলিত গুণীজন-১)।
সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, চিত্র মোহন চাকমা, রনেল চাঙমা, নির্মল কান্তি চাকমা, কিশলয় চাকমা, মনোরঞ্জন চাকমা, এম. ও. চাকমা, গয়াসুর চাকমা, স্মৃতি জীবন তালুকদার, লগ্ন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বৃষ কেতু চাকমা,তনয় দেওয়ান, রিপরিপ চাকমা,  প্রজ্ঞা অংকুর চাকমা,টিটো চাকমা, উৎপল চাকমা, সুকাম চাকমা, চাঁপা দেওয়ান এবং মন্টু বিকাশ চাকমা। চাকমা ভাষায় প্রবন্ধ লিখেছেন ভবন্তু বিকাশ চাকমা (কানমন্ত্র) ও নীল বরন চাকমা (আহ্রে ফেলের জাদের ভাচ্ছানি): ত্রিপুরা কবিতা লিখেছেন মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরা, বাংলায় রম্য রচনা লিখেছেন বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা এবং অন্নদা মঙ্গল চাকমা, বাংলা কবিতায় লিখেছেন দীপনা চাকমা। অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শরবিন্দু শেখর চাকমার (প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত) সাাৎকার গ্রহণ করেছেন সুগম চাকমা। বাংলা কবিতা লিখেছেন বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা, ল্যারা চাকমা ও অপারিকা চাকমা, চাকমা গল্প লিখেছেন ভেঘাত্যা চাঙমা ও গেঙখুলী চাকমা; চাকমা  গান লিখেছেন চীনা চাকমা ও রোনাল চাকমা; চাকমা প্রবাদ সংকলন করেছেন হিতো চাকমা এবং বিষু ছড়া লিখেছেন পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা। পবিশেষে জুরাছড়ি উপজেলার আলোকিত মানুষ শিরোনামে জুরাছড়ি উপজেলার চৌদ্দ জন কৃতী সন্তানের জীবনী সংকলিত হয়েছে।

তের
বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি ২০০৩ সালের  বিঝু উপলে প্রকাশ করেছে নির্মল কান্তি চাকমা কাব্যগ্রন্থ ‘নিঝেন’ (স্মৃতি)। কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে ৩৬টি কবিতা। কাব্যগ্রন্থটির মূল্য পঞ্চাশ টাকা।

চৌদ্দ
ষান্মাসিক সাহিত্য সংকলন ‘বনযোগীছড়া’ তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ২০০৩ সালের জুলাই মাসে। ২৮ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য দশ টাকা। এটি সম্পাদনা করেছেন সুঞ্জুক  চাকমা এবং প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন রতন মনি চাকমা।
এই সংকলন বাংলা কলাম লিখেছেন জ্বলি উদিম চাঙমা (পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিা), চাকমা ভাষায় কলাম লিখেছেন ভেঘাত্যা চাঙমা (পরিবর্তনের পদন্দি আহ্দিনে): ছড়া লিখেছেন সুখেশ্চর চাকমা পল্টু, খোকন চাকমা, গল্প লিখেছেন সুগম চাকমা ও নির্মল কান্তি চাকমা। এরপর আছে চিত্র মোহন চাকমার সাাৎকার। “পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের সংস্কৃতি রায় কি ধরনের উদ্যোগ গহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?” এ প্রশ্নের জবাবে মতামত প্রকাশিত হয়েছে সুনীতি বিকাশ চাকমা,রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, জগৎ ময় ত্রিপুরা ও চৈতালী চাকমা। বাংলা কবিতা লিখেছেন মংছেংহো এবং স্মৃতি জীবন তালুকদার চাকমা গান লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা। সংকলিত হয়েছে, কবি সুহৃদ চাকমা সংপ্তি জীবনী গদ্য/ সংকলন পরিচিতি ছাড়াও আছে ২০০৩ সনের প্রকাশিত বিঝু সংকলনের তালিকা। চাকমা ধাঁধা সংকলন করেছেন চিত্রমোহন চাকমা। বোম কিংবদন্তি ‘ভোগাকাইন’ (ভোগাহ্রদ) লিখেছেন এস.এ. প্র“।

পনের
ষাম্মাসিক সাহিত্য সংকলন ‘বনযোগীছড়া’ চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ২০০৩ সালের নভেম্বর মাসে। ২৮ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য দশ টাকা। এটি সম্পাদনা করেছেন সুঞ্জুক চাকমা এবং প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন জিংমুন লিয়ান বম।
এই সংকলনে বাংলা কলাম লিখেছেন জ্বলি উদিম চাঙমা (প্রসঙ্গঃআদিবাসী গার্মেন্টস্ শ্রমিক) এবং ভেঘাত্যা চাঙমা (জাতীয়তাবোধ বিকাশে সাংস্কৃতিক চৈতন্য); ছড়া লিখেছেন চিত্রমোহন চাকমা; চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন সুগম চাকমা; চাকমা কবিতা লিখেছেন কবিতা চাকমা, রনেল চাঙমা, অনিল ববন চাকমা, নির্মল কান্তি চাকমা, বিধু চাকমা। জগৎ জ্যোতি চাকমার সাাৎকার, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক প্রয়াত অশোক কুমার দেওয়ানের জীবনী, এস.এ.প্র“ এর বোম কিংবদন্তি ‘ভোগাকাই ভোগাহ্রদ তনয় দেওয়ান ইন্দুর সংকলন পরিচিতি এবং চিত্র মোহন চাকমা সংগৃহীত বান্-আ (ধাধা) ‘বনযোগীছড়া সংকলনে স্থান পেয়েছে।

ষোল
‘জুম্ম জাতির মহাননেতা’ মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ২০তম প্রয়ান দিবসে ২০০৩ সালের ১০ নভেম্বর বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যান সমিতি প্রকাশ করেছে বিধুভূষন চাকমা সম্পাদিত ‘আরুং’ (মারমা শব্দ, অর্থ হচ্ছে ভোর)। আট পৃষ্ঠার এ সংকলনটির মূল্য দশ টাকা । এতে ‘ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া শীর্ষক’ প্রবন্ধ লিখেছেন ভেঘাত্যা চাঙমা এবং কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার ও সুগম চাকমা।
সতের
বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে প্রকাশ করেছে চিত্র মোহন চাকমা ‘মনত থায় পারা’। এতে ৭৭টি চাকমা বান-আ (ধাঁধাঁ) সংকলিত হয়েছে। এটি পুস্তিকার দ্বিতীয় প্রকাশ । প্রথম প্রকাশ করেছিলেন সন্তোষ কুমার চাকমা ২০০০ সালে । বার পৃষ্ঠার এ পুস্তিকার মূল্য দশ টাকা।

আঠার
সাধক শিবচরন চাকমার ‘গোঝেন’ লামা’ সুগম চাকমার সম্পাদনা ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পুস্তিকাটির মূল্য দশ টাকা।

উনিশ
২০০৪ সালের একুশে ফেব্র“য়ারী বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি প্রকাশ করেছে একুশের সংকলন ‘মুনখাও’।

বিশ
২০০৪ সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি বৈসাবি (বিঝু) সংকলন ‘অখ্যইক’ (মারমা শব্দ, অর্থ হচ্ছে ভালবাসা) প্রকাশ করেছে। ৮০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন রতন মুনি চাকমা; শুভেচ্ছা মূল্য চল্লিশ টাকা।
এই সংকলনে সাতটি বাংলা প্রবন্ধ, একটি ইংরেজী প্রবন্ধ ও একটি চাকমা প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। প্রবন্ধগুলো হচ্ছে- প্রগতি খীসার ‘বিঝু সেকাল-একাল’, নন্দলাল শর্মার ‘চাকমা প্রবাদে নারী’, নিরঞ্জন চাকমার ‘আদিবাসী সমাজে জুম চাষ: জুম শব্দের উৎপত্তি প্রসঙ্গে’, সুগম চাকমার ‘জুমচাষ: পার্বত্য চট্টগ্রামের বন উজাড়ের জন্য কতটুকু দায়ী’,প্রিয়দর্শী খীসার ‘চাংমা বর্নমালা’, সমীরন দেওয়ানের ‘কালের বিবর্তনের ধারায় বৈসাবি’, শ্যামল মিত্র চাকমার ‘জুম্ম ছাত্র সমাজ কোন পথে’; সদানন্দ চাকমা সুহৃদের উঐঅখ কটগঅজ ঈঐঅকগঅ ঃ অ চঙজঞজঅণঅখ ঙঋ অঘ অখখ জঙটঘউঊজ ঞঊঅঈঐঊজ এবং দেবপ্রিয় চাঙমার ‘হিল চাদিগাঙ্র লেখিয়াউনর জীবনের নিরাপত্তা কুধু’ ।
সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, মৃত্তিকা চাকমা, জগৎ জ্যোতি চাকমা, বারেন্দ্র লাল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, রনেল চাঙমা, টিটো চাকমা চিত্তি,রিপরিপ চাঙমা ও ননা চাঙমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন অমলেন্দু বিকাশ চাকমা; রম্য রচনা লিখেছেন অন্নদা মঙ্গল চাকমা; চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষায় গান লিখেছেন যথাক্রমে চিত্রমোহন চাকমা, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা ও মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। শেষ দুটি গানের বঙ্গানুবাদও দেয়া হয়েছে। বাংলা গল্প লিখেছেন প্রভাংশু ত্রিপুরা ও চিত্রমোহন চাকমা; চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন শ্রী বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও ভেঘাত্যা চাঙমা। চাকমা ভাষায় ছড়া লিখেছেন পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা ও নিকোলাই চাঙমা, জুমল্যান্ড পালা লিখেছেন অরিন্দম চাকমা। পরিশেষে জুরাছড়ি উপজেলার আলোকিত মানুষ দ্বিতীয় পর্বে দুজন আলোকিত মানুষের জীবনী প্রকাশিত হয়েছে।

একুশ

বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি থেকে ২০০৫ সালে ‘বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু-বিষু’ সংকলন ‘তোকজিং’ (ভোর) প্রকাশিত হয়েছে। ৮০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন জয়মতি তালুকদার ফেন্সী। শুভেচ্ছামূল্য পঞ্চাশ টাকা। সংকলনটি মহেন্দ্র লাল চাকমাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
এই সংকলনে প্রকাশিত আটটি বাংলা প্রবন্ধ, একটি ইংরেজী প্রবন্ধ ও দুটি চাকমা প্রবন্ধ হচ্ছেঃ- নন্দলাল শর্মার ‘প্রসঙ্গঃ চাকমা কবিতা’, প্রভাংশু ত্রিপুরার আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ও দেশের প্রচলিত শিা ক্যারিকুলামে আদিবাসী মাতৃভাষায় পাঠদানের সম্ভাবনা’, প্রগতি খীসা ধজার ‘বাংলা দেশের আদিবাসী জাতিসত্তা; মংছেন চীং (মংছিন) এর ‘বাংলাদেশের পার্বত্য উপজাতীয়দের জীবনযাত্রার পদ্ধতি, অরিন্দম চাকমার ‘কেমন আছে থানছির আদিবাসী শিশুরা’, সুগম চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের হেডম্যান ও কার্বারীদের গুরুত্ব’, শোভা ত্রিপুরা ‘কাব্য সাহিত্য ত্রিপুরাদের অবদান’, হারাধন চক্রবর্তী (রাজু)র ‘ লেখকের দৃষ্টিতে বিঝু’: সদানন্দ চাকমার চজওঘঞওঘএ গওঝঞঅকঊ-ঞঐঊ গঙঝঞ ঞজঅটগঅঞওঈ ঊঢচঊজওঊঘঈঊ ঋঙজ অ ডজওঞঊজ এবং দেবপ্রিয় চাকমার ‘২০৫০ সালের একদিন’ ও বারেন্দ্র লাল চাকমার ‘কধা দ্বি কধা কধ চাই’।
এই সংকলনে চাকমা কবিতা লিখেছেন মৃত্তিকা চাকমা, শিশির চাকমা, জগৎ জ্যোতি চাকমা, তনয় দেওয়ান ইন্দু, মুক্তা চাকমা, নির্মল কান্তি চাঙমা, অনিল বরণ চাকমা, টিটো চাকমা, (চিত্তি) পারমী চাকমা ও ফুলসদক চাকমা; ত্রিপুরা কবিতা লিখেছেন মহেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, চিত্রমোহন চাকমা, হাফিজ রশিদ খান, বিধু চাকমা, প্রিয়াংকা (পুজ্জল), সাহারা ও পলি চাকমা; চাকমা গল্প লিখেছেন প্রতাং চাকমা এবং ছড়া লিখেছেন পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা ও রনেল চাঙমা। এ সংকলন একান্ত সাাৎকার দিয়েছেন প্রবীন লেখক শ্রী বীর কুমার চাকমা তঞ্চঙ্গ্যা। শেষাংশে ‘জুরাছড়ি উপজেলা আলোকিত চারজন ব্যক্তির জীবনী সংযোজিত হয়েছে।

বাইশ
২০০৬ সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যান সমিতি প্রকাশ করেছে বৈসাবি সংকলন ‘কেং’। ৮০ পৃষ্ঠার এ সংকলনটির শুভেচ্ছা মূল্য পঞ্চাশ টাকা; সম্পাদনা করেছেন নির্মল কান্তি চাকমা। সংকলনটি উৎসর্গ হয়েছে। জুরাছড়ি আলোকিত ব্যাক্তির সদস্যপ্রয়াত ধীরেন্দ্র লাল চাকমাকে।
‘কেং’ (খুমি শব্দ, অর্থ সিড়ি)-এ প্রকাশিত ছয়টি বাংলা ও দুটি চাকমা প্রবন্ধ হচ্ছে- সঞ্জীব দ্রং এর ‘গারো পাহাড়ে দুঃখ কষ্টের মধ্যে আশাভরা কিছু মানুষের মুখ’, নন্দলাল শর্মার ‘বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন চর্চার চাকমা জাতি’, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার, ‘জুরাছড়ি (সুবলং ও বিলাইছড়ি রাইখ্যং) দুটো পাশাপাশি উপজেলার জাতীয় জীবনে তাদের ভূমিকা’, রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার ‘কিভাবে এল বাংলা নববর্ষ এবং আমাদের চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব’, মংছেন চিং (মংচিন)-এর ‘রাখাইন নববর্ষ’ বিন্দু চাকমার ‘পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত সাহিত্যিক চিত্রমোহন চাকমা’ এবং মৃত্তিকা চাঙমার ‘ইরুক চাকমা সাহিত্যর আধুনিক কবিতে’ ও দেবপ্রিয় চাঙমার ‘আদি দেজত সোবনর ঝাক’।
এই সংকলনে ভ্রমনকাহিনী লিখেছেন সুগম চাকমা; বাংলা গল্প লিখেছেন প্রগতি খীসা; আর্নেস্ট হোমিংওয়ের গল্প চাকমা ভাষায় অনুবাদ করেছেন রনেল চাঙমা; স্মৃতিকথা লিখেছেন চিত্রমোহন চাকমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, হাফিজ রশিদ খান, এ.কে.এম. মনিরুল ইসলাম, প্রতিভা ত্রিপুরা, নতুন ময় চাকমা, মন্টি দেওয়ান, সাধনানন্দ চাকমা ও জোনাকি তঞ্চঙ্গ্যা; চাকমা কবিতা লিখেছেন বারেন্দ্রলাল চাঙমা, নরোত্তম খীসা, ভবন্ত বিকাশ চাঙমা, নির্মল কান্তি চাঙমা, রিপরিপ চাঙমা ও তনয় দেওয়ান ইন্দু; চাকমা গান লিখেছেন প্রিয়দর্শী খীসা ও সম্ভুনাথ চাঙমা, পরিশেষে ঝিমিত ঝিমিত চাকমার সাাৎকার সংকলিত হয়েছে।

তেইশ,
২০০৭সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি প্রকাশ করেছে বৈসুক সাংগ্রাই বিঝু সংকলন ” ছাবা”। সংকলনটির সম্পাদক তনয় দেওয়ান ইন্দু। আশি পৃষ্ঠার সংকলনটির মূল্য ষাট টাকা। এটি উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীমতি হীরালতা দেওয়ানকে।
এই সংকলনে  প্রকাশিত সাতটি বাংলা প্রবন্ধ হল অরিন্দম চাকমার “একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম: বনযোগীছড়া স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট  নন্দলাল শর্মার ’চাকমা পুঁথি সংগ্রহ প্রসংগে, আনন্দ মিত্র চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম: আদিবাসী সংস্কৃতি সংকট, বীরকুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘ষষ্ঠ বৌদ্ধধর্ম সঙ্গীতি (সম্মেলন) এবং আমাদের ভুমিকা’ সুগত চাকমার  ‘প্রসঙ্গ : পার্বত্য চট্্রগ্রামের আদিবাসীদের মাতৃভাষা’ , ঠেগাচান চাকমার ‘অলাক’ ্এবং কুমুদ বিকাশ চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান  আদিবাসীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ্এট্রান্স পাস (যৌথ) ও গ্রথম ডিপুটি ইনেসপেক্টর অব স্কুল  ও অবিনাশ চন্দ্র দেওয়ান এর সং্িপ্ত জীবণ বৃত্তান্ত ’। এ সংকলন চাকমা ভাষায় গল্প লিখেছেন  মুক্তা চাকমা ,প্রভাং চাকমা, দেবপ্রিয় চাকমা ও রনেল চাকমা। ভ্রমন কাহিনী  লিখেছেন চিত্র মোহন চাকমা। চাকমা কবিতা লিখেছেন; তরুন কুমার চাকমা,শ্যামল তালুকদার, জগৎজ্যোতি চাকমা, অমলেন্দু বিকাশ চাকমা,বারেন্দ্রলাল চাকমা, প্রেমলাল চাকমা ও শ্রী প্রগতি খীসা,তঞ্চঙ্গ্যা কবিতা লিখেছেন অজয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা কবিতা লিখেছেন মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরা; চাকমা কবিতা লিখেছেন রিপরিপ চাকমা, রিপন চাঙমা, পূর্ন বিকাশ চাকম পেটিশ, অরুন দর্শী চাকমা ,তনয় দেওয়ান ইন্দু , ভেঘাত্যা চাঙমা, প্রকাশ চাকমা, রিলেন চাকমা, মৃত্তিকা চাঙমা,রিএলী চাকমা, অরিন্দম চাঙমা, উদেন চাকমা, চাকমা গান লিখেছেন শংকর চাকমা এবং বাংলা কবিতা লিখেছেন বচন নকরেক, এ কে এম মনিরুল ইসলাম, দেবোত্তম খীসা ও এ্যালি চাকমা।

চব্বিশ,

২০০৮ সালের ২৩ নভেম্বর দশম বর্ষ পূর্তি উপলে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি প্রকাশ করেছে সাহিত্য সংকলন ‘আহ্ভা’ (চাকমা শব্দ, অর্থ হাওয়া)। আশি পৃষ্ঠার এ সংকলন সম্পাদনা করেছেন তনয় দেওয়ান ইন্দু এবং সুগম চাকমা। সংকলনটির শুভেচ্ছা মূল্য ষাট টাকা। এটি উৎসর্গ করা হয়েছে সুনীতি বিকাশ চাকমাকে।
এই সংকলন প্রকাশিত তিনটি বাংলা প্রবন্ধ ও একটি চাঙমা প্রবন্ধ হল-বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা চাই’, নন্দলাল শর্মার ‘চাকমা লোকসাহিত্য (ছড়া), সুসময় চাকমার ‘চাকমা ভাষায় আরাকানিদের প্রভাব’ এবং মৃত্তিকা চাকমার ‘চিত্র মোহন চাকমার গীদ পোইদ্যান জুমর আহ্ভা’। ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন সুপ্রিয় তালুকদার এবং মনোজ বাহাদুর; চাঙমা গল্প লিখেছেন শিশির চাকমা, প্রতাঙ চাকমা ও তনয় দেওয়ান ইন্দু; বাংলা গল্প লিখেছেন সুগম চাকমা ও সামছুল ইসলাম বাপ্পা বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন চিত্রমোহন চাকমা, মনতোষ চাকমা এবং মন্টি দেওয়ান।

এই সংকলনে চাঙমা কবিতা লিখেছেন শ্যামল তালুকদার, বারেন্দ্র লাল চাকমা,স্মৃতিজীবন তালুকদার, রিপন চাঙমা, জয়মতি তালুকদার, সান্ত্বনা চাকমা, দেবোত্তম খীসা, জুনান চাকমা, নিকোলাই চাঙমা ও বিবর্তন চাকমা; বাংলা কবিতা লিখেছেন নির্মল কান্তি চাকমা, মনতোষ চাকমা, রমেন চাকমা, সুপ্তা কর্মকার (সুমিত্রা), বিনয় জ্যোতি চাকমা, সুর্বনা দেওয়ান, মোহাম্মদ এমরান, জেনী চাকমা, শশী চাকমা, শিমুল চাকমা, সুবন চাকমা, নন্দিনী চাকমা, মিহির চাকমা, সুখেন চাকমা, কনক চাকমা, নিটেন চাকমা, নিরুময় চাকমা, সিং অং র্মামা, শুচিতা তঞ্চঙ্গ্যা ও উবাহাইন র্মামা; চাঙমা গীদ লিখেছেন মৃত্তিকা চাঙমা ও তনয় দেওয়ান ইন্দু। শেষে আছে কবি শ্যামল তালুকদারের সাাৎকার।

পঁচিশ,

বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি একটি গ্রামের কতিপয় সাহিত্য – সংস্কৃতি প্রেমী কিশোর কিশোরী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। এর বয়স দশ বছর অতিক্রান্ত হল। এক দশকে এই সংগঠন বাইশটি প্রকাশনা দ্বারা আমাদের প্রকাশনা জগৎকে আলোকিত করেছে। এই প্রকাশনাগুলোকে আটটি শ্রেনীতে বিভক্তকরা যায়।
ক. বিঝু সংকলনঃ ২০০১-২০০৬ ছয় বছরে ছয়টি মূল্যবান সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি সংকলনে মূল্যবান প্রবন্ধ, ছোটগল্প, নাটিকা, কবিতা, গান, লোকসাহিত্য সংকলিত হয়েছে। সংকলনে নবীন-প্রবীন’ সকল শ্রেনীর লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে।  চাকমা ভাষায় লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গান সংকলনগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। চাকমা কবিতার এখন সমৃদ্ধির যুগ। গদ্য চর্চা প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করেছে। এই পর্যায়ে উত্তরনে লেখকদের শ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় প্রশাংসনীয় । তাদের রচনা একদিন চাকমা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করবে।
খ. ষাম্মাসিক সাহিত্য সংকলন ‘বনযোগীছড়া’ চার সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের মফস্বলে অবহেলায় পড়ে থাকা সাহিত্যকর্মীদের রচনা প্রকাশে সংকলনগুলো মূল্যবান ভূমিকা পালন করছে। প্রকাশের সুযোগ না থাকায় মফস্বলের অনেক প্রতিভা অকালে সাহিত্যচর্চা থেকে সরে যান। এই প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সমিতি এগিয়ে এসেছে। এর কর্মীরা এজন্য ধন্যবাদাই।
গ. বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলে দুটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। এ দুটি সংখ্যা বিশ্ব আদিবাসী দিবসের সঙ্গে সংহতি রেখে আদিবাসীদের ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে। সমিতির কর্মীদের সচেতনতা অন্যান্য অবেহেলিত আদিবাসীদের আতœসচেতন করে তোলতে সাহায্য করবে। জাতিসংঘ ঘোষিত এদিবসটিকে তাৎপর্য সবাইকে অনুধাবন করতে হবে।
ঘ. আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলে তিনটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

ঙ. একটি একক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
চ. মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা স্মরনে দুটি শ্রদ্ধার্থ প্রকাশিত হয়েছে।
ছ. লোকসাহিত্য বিষয়ক দুটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে।
জ. সমিতির তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বর্ষিকীতে শুভেচ্ছাবানী সংকলন ‘স্মরনিকা’এবং দশম পূর্তি উপলে একটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।
সমিতির প্রকাশিত সংকলনগুলোর মধ্যে কঠোর শ্রমের ফসল ছয়টি বিঝু সংকলন এ দশম বর্ষ পূর্তি স্মারক সংকলন।
জুরাছড়ি উপজেলা আলোকিত মানুষদের জীবনী প্রকাশ ও সাাৎকার প্রকাশ একটি মহতী উদ্যেগ। সমিতি প্রবীন ও প্রয়াতদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সংকলন উৎসর্গ করে। তাদের এই ঐতিহ্যপ্রীতি প্রশংসনীয়। একজন প্রবীন কবির (চিত্র মোহন চাকমা) জীবন কথা ও সাহিত্য কর্ম আলোচনা একটি দায়ভার থেকে মুক্তি লাভের প্রয়াস।
মফস্বলে বসে সাহিত্যচর্চা, বিশেষকরে প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করা খুবই কঠিন। কিন্তু এ কঠিন দায়িত্ব পালনে সাফল্য অর্জন করেছে এক ঝাক তরুন তরুনী। বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি চিরকিশোর থাকুক; তাদের অনুসরণে অন্যান্য গ্রামেও গড়ে উঠুক এ ধরনে কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি। পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের আদিবাসী সাহিত্য চর্চা ও বাংলা সাহিত্য চর্চা আরো বেগবান হোক একামনা করি। জয়তু বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি।

বিদ্রঃ- এই লেখাটি ২০০৯ ইং সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত জুনিপুক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

এই বিভাগের আরো পোস্ট

Tags: