font-help

এই পোস্টটি 1,515 বার দেখা হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক। শ্রী রনক চাকমা

শ্রী রনক চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক

 

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা ৩০ ল মানুষের পবিত্র শহীদি রক্তে প্লাবিত এই বাংলাদেশ একক কোন জাতির আত্মত্যাগে স্বাধীনতা লাভ করেনি। দেশের সর্ববৃহৎ হয়েছে অকুতোভয় আদিবাসীরাও। কিন্তু আদিবাসী মানুষের চরম দূর্ভাগ্য যে, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে আদিবাসীদের আত্মস্বীকৃতি মিলেনি। অধিকন্তু, স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর অ-আদিবাসী বাঙালী মুক্তি যোদ্ধারা বর্তমান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়িতে ১৪ জন নিরীহ আদিবাসীকে রাজাকারও স্বাধীনতা বিরোধী মিথ্যে অভিযোগে নির্মমভাবে হত্যা করে।(মাওরুম, অপরাজেয় ভাষা সংকলন ২০০৬। পৃষ্ঠা- ১০১১) এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণ জাতীয় অস্তিত্ব রার প্রশ্নে শংকিত হয়ে পড়ে। তাই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে আদিবাসী জনগণের জাতিয় স্বীকৃতির দাবী জানানো অপরিহার্য্য হয়ে পড়ে। এরই প্রোপটে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা তৎকালিন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে এক সাতে মিলিত হন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জাতীয়তা স্বীকৃতির দাবী তুলে ধরেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শ্রী লারমার দাবী আমলে না নিয়ে আদিবাসী জনগণকে বাঙালী জাতিতে মিশে যাবার পরামর্শ দেন। এই পরামর্শে শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা আরো বেশী ুদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন করেন। এ রাজনৈতিক সংগঠনের আমর্স ফোর্স শান্তিবাহিনী গঠিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণ জাতীয় অস্তিত্ব রার আন্দোলনে জনসংহতি সমিতির পতাকার তলে শামিল হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

 

জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন করা হয় এবং একই সাথে দেশের অন্যান্য সমতল জেলা হতে অর্ধ লরে বেশী নিরীহ বাঙালীকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূণর্বাসন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালী পূণর্বাসন শুরু করা হলে ভূমি সমস্যা দেখা দেয় এবং আদিবাসী ও বাঙালীদের মধ্যে জাতিগত সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে সংগঠিত হয় অসংখ্য আদিবাসী গণ হত্যা, নির্যাতন ও নারী ধর্ষন। তা সত্ত্বেও জনসংহতি সমিতির পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের বিশ্বাসে অটল থেকে সরকারের সাথে আলাপ আলোচনার পথ বরাবরই উন্মুক্ত রাখে। এতদ্কারণে জেনারেল এরশাদ সরকারের সাথে ৬ বার, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে ১৩ বার এবং সর্বশেষ জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে ধারাবাহিকভাবে ৭বার সর্বমোট ২৬ বার বৈঠক করার পর ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বারিত হয়। চুক্তি স্বারিত হলে সারা বিশ্বের মানুষ আশা করেছিল যে, শান্তি চুক্তির পর সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে শান্তির সুবাতাস বয়ে যাবে। কিন্তু চুক্তি স্বারের পর এক দশকের বেশী সময় পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত হানাহানির কোন অবসান হয়নি এবং কি চুক্তির মৌলিক দিগসমূহ ও বাস্তবায়ন করা হয়নি যা অত্যন্ত বেদনা দায়ক।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা ঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার অন্তরালে যে বিষয়টি সবচেয়ে প্রকট তা হলো ভূমি সমস্যা সারা দেশের বর্তমানে মাথাপিছু চাষাবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ যেখানে ০.২২ একর সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে মাথাপিছু জমির পরিমাণ মাত্র ০.১৪ শতাংশ। তাছাড়াও উক্ত জমি অধিকাংশ পাহাড় ও খাড়া টিলায় পরিপূর্ণ যা উদ্যান চাষের উপযোগী জমির পরিমাণ ১৮.৭ শতাংশ বা ৭,৫৫,৮৪০ একর এবং ৫.৩ শতাংশ ২,১৪,৪০০ একর পানি ও বসতি এলাকা এবং রাস্তাঘাট। অবশিষ্ট ৭২.৯ শতাংশ ২,৯৪৩০৬ একর ভূমি পাহাড় পর্বতে পরিপূর্ণ বিধায় চাষাবাদ করার কোন সুযোগ নেই। (প্রথম আলো, ২ ডিসেম্বর- ২০০৫)। তা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশাল চাষাবাদ যোগ্য জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে এ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে দেশের অপরাপর সমতলীয় জেলা হতে প্রতিদিন বহিরাগত লোকের অনুপ্রবেশ ঘটছে। এবং এতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি ও জাতিগত সমস্যা দিন দিন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জমির তিন ভাগের ১ ভাগের বেশী ভূমি সরকারী বাস ল্যান্ড হিসেবে চিহিৃত। ইহা ছাড়াও রয়েছে সরকারী রিজার্ভ বনাঞ্চল এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার হাজার হাজার একর লীজভূক্ত জমি যেখানে সাধারণ মানুষের উপকার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। অন্যদিকে আদিবাসী গোষ্ঠীর জন সাধারণ উত্তরাধিকারভাবে আজন্ম সহজ সরল জীবন যাপনের অধিকারী এবং প্রথাগত ভূমি অধিকারের বিশ্বাসে বিশ্বাসী। তাই তারা সরকারীভাবে জমি বন্দোবস্তী নেওয়ার জট কাছে কোন মূল্যও নেই। ফলে সে জায়গার উপর তারা যুগ যুগ ধরে বসতি বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে সে জমির মালিক যে সরকার অর্থাৎ খাস ল্যান্ড তা তাদের খেয়ালও নেই। এই সরল বিশ্বাসের ফলে তারা রাতারাতি নিজ বাস্তুভিটা হতে উচ্ছেদ হচ্ছে। কারণ আদিবাসীদের ভূমি আছে দলিল নেই আর চতুর বেদখলকারীদের দলিল আছে ভূমি দখলে নেই। আর আইন গ্রাহ্য করবে ভূমি বন্দোবস্তীর দলিল মুখের কথা কিংবা আদিবাসীদের প্রথাগত বিশ্বাসকে নয়। তাই দিনে দিনে আদিবাসীদের বাস্তুভিটা, শ্বশ্মান ভূমি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। অপর পে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে জমিদারী গাড়ী বাড়ীর মালিক বসে যাবার উৎসাহে বাইরের জেলা হতে লোকজন এসে অনুপ্রবেশ করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আদিবাসীরা অতি দ্রুত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী পাহাড়ী বাঙালী অনুপতি ৫১:৪৯ অর্থাৎ প্রায়ই সমানে সমান।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যা ঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে আদিবাসী জনগণের আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলন চলাকালিন সময়ে বার বার গণহত্যা সংগঠিত হয়। গণহত্যা সংঘঠিত করার পেছনে সে মূল উদ্দেশ্য ছিল তা হলো আদিবাসীদের আন্দোলনে প্রতি নিরুৎসাহিত করা এবং তাদের মধ্যে ভাতি সৃষ্টি করে জনসংহতি সমিতির আন্দোলনের বিপে জনমত সৃষ্টি করা। কিন্তু এসব দূর্বি সন্ধিজনক কুটকৌশল কোন কাজে আসেনি। বরং যতবারই নারকীয় গণতত্যা চালানো হয়েছে ততবারই আদিবাসী গর্জিয়ে উঠেছে। আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সব আদিবাসী গণহত্যা সংঘঠিত হয় তৎমধ্যে কলমপতি গণহত্যা, লংগদু মাল্ল্যা গণহত্যা (২ ফেব্র“য়ারী ১৯৯২), লোগাং গণহত্যা (১০ এপ্রিল ১৯৯২), নানিয়ারচর গণহত্যা (১৭ নভেম্বর ১৯৯৩) এবং লংগদু তিনটিলা গণহত্যা (৪মে ১৯৮৬) অন্যতম। এ সব গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজিত পরিস্থিতে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থা আশংকিত হয়ে পড়লে এ্যামেনেষ্ঠি ইন্টারন্যাশন্যাল (সেপ্টেম্বর ১৯৮৬) “জীবন আমাদের নয়” শিরোনামে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী গণহত্যার সচিত্র প্রতিবেদন বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে (মাওরুম- ২১ মার্চ ২০০৬ পৃষ্ঠা- ১০২) এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আতংকিত হয়ে পড়ে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে তৎকালিন সরকারকে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দেশের ভাবমূর্তি ুন্ন হয় এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের পে কোন শুভ নয়।

 

বাংলাদেশে আদিবাসী ঃ

এদেশে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিঁটিয়েভাবে ৪৫টি আদিবাসী জাতিসত্ত্বার প্রায় ২০ লরে অধিক আদিবাসী রয়েছে। দেশের ভৌগলিকগতভাবে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম। ময়মনসিংহ, সিলেট, উত্তরবঙ্গ, পটুয়াখালী, বরগুনার সুন্দরবন অঞ্চল। কক্সবাজার জেলায় আদিবাসীদের অবস্থান। দেশের যেকোন সংকটময় মূহুর্তে আদিবাসীরা দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী বাঙালীদের সাথে সমানভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আদিবাসীরাও যুদ্ধের ময়দানে হাসিমুখে দেশের জন্য প্রান উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধানে তাদের জাতীয়তার স্বীকৃতি মিলেনি। শুরু হয় আদিবাসীদের শোষণ ও বঞ্চনার জীবন। এ শোষণ ও বঞ্চনা থেকে পরিত্রানের জন্য আদিবাসীরা সংগঠিত হয়ে তাদের অধিকার আদায়ের প্লাটফরম বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম গঠন করে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের কিংবদন্তীতম প্রবাদ পুরুষ শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম গঠনের পর আদিবাসীদের জাতীয় জীবনের মোড় ঘুরে। তারা নূতন উদ্দীপনায় সংগঠিত হতে সুযোগ পায়। ফলে তাদের সংগ্রামে শামিল হয়ে পড়ে দেশের প্রগতিশীল সুশীলসমূহ, কবি সাহিত্যিক, নাট্যকার, গীতিকার, শিল্পী, সাংবাদিক, শিক ও বুদ্ধিজীবিরা। এতে আদিবাসীদের সংগ্রাম জোরদার হয়ে পড়ে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসমূহের সমর্থন আদায়ে সম হয়। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম নিম্নোক্ত দাবীনামাসমূহ সরকারের কাছে পেশ করেছে এবং উক্ত দাবীনামা বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

১। বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিং স্বীকৃতি দিতে হবে।

২। বাংলাদেশের আদিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমির

অধিকার দিতে হবে।

৩। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪। বন সংশোধন আইন-২০০০ এবং মৌলিক বাজার ও টাঙ্গাইল, মধুরপুরের আদিবাসীদের

এলাকার ইকো-পার্ক নির্মাণের সরকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

৫। আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমিতে সরকারের গৃহীত সামাজিক বনায়ন, ইকো ট্যুরির্জম

প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এবং কোন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় ও

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতৃবৃন্দের সম্মতি ব্যতিরেখে কোন প্রকল্প গ্রহণ এবং

বাস্তবায়ন করা যাবে না।

৬। খসড়া সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০০ আদিবাসী জনগণ ও বন নির্ভর

জনগোষ্ঠীসমূহের সম্মতি ব্যতীত পাশ করা যাবে না।

৭। গিদিতা বেমা ও মালফ্রেদ সরেনসহ সকল আদিবাসী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত

মূলক শাস্তি প্রদান করা।

৮। আদিবাসীদের উপর সকল প্রকার নিপীড়ন নির্যাতন বন্ধু করাসহ সকল প্রকারের মিথ্যা

মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

৯। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য আসল সংরন করতে হবে।

১০। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যায় বাংলাদেশের অন্যান্য আদিবাসীদের জন্য

আদিবাসীদের নেতৃত্বে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা।

১১। ১৯৯৭ সালে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ কর্তৃক গৃহীত আদিবাসী ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করা।

 

আদিবাসী ফোরামের উপরোক্ত দাবীনামাসমূহ বাস্তবায়নের সংগ্রামে বাংলাদেশের সমগ্র আদিবাসীরা সংহত ও ঐক্যবদ্ধ। এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় দেশের উদার গনতান্ত্রিক দল আদিবাসীদের অনুপ্রেরণা ও সমর্থন যুগিয়ে আসছে। হয়তোবা কোন একদিন সরকার আদিবাসীদের মর্মবেদনা উপলদ্ধি করতে সম হবে এবং দেশের সংবিধান সংশোধন আদিবাসীদের ন্যায় সংগত অধিকার ফিরিয়ে। বর্তমান অষ্ট্রেলিয়া সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে অতীত আচারণের জন্য মা চেয়ে সে দেশের আদিবাসীদের ত বিত মর্মবেদনা পুষিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। আমাদের দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারও তো সে রকম সহানুভব দেখাতে পারে অথবা এদেশের আদিবাসীদের বলতে পারে তোমরা অতীতকে ভূলে যাও আসুন প্রত্যেকেই সহভাগী হয়ে এই সোনার বাংলাকে সকল নাগরিকের কর্মস্থান যোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।

ওখঙ ঈড়হাবহঃরড়হ ১৯৯৭

বিশ্বের সমগ্র আদিবাসীদের জীবন মনোন্নয়ন তথা রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৫৭ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ওখঙ জেনেভাতে এক বৈঠকে মিলিত হয়। এই বৈঠকের ৬ষ্ঠ আলোচ্যসূচীতে বিশ্বের বিপন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সার্বিক মনোন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং বৈঠকে আদিবাসীদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনান্তে জাতিসংঘ সদস্যভূক্ত স্বাধীন দেশসমূহে ওহফরমবহড়ঁং ধহফ ঞৎরনধষ ঢ়ড়ঢ়ঁষধঃরড়হ এবং আধা উপজাতয়ি আদিবাসীদের নিরাপত্তা ও অখন্ডতা রাতে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ গ্রহণ করা হয়। এবং উক্ত অনুচ্ছেদসমূহ বাস্তবায়নের প্রতি জাতি সংঘের সদস্য ভূক্ত দেশ সমূহের সরকারকে উদার্ত্ত আহবান জানায়। উক্ত কনভেশনে গৃহীত কতিপয় অনুচ্ছেদ নিম্নে তুলে ধরা হল।

 

অনুচ্ছেদ – ১

(ক) উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা জাতীয় জনসমষ্ঠির অন্যান্য অংশের চেয়ে কম অগ্রসর এবং সাদের মর্যাদা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক ভাবে তাদের নিজর্স্ব কিংবা রীতি-নীতি অথবা বিশেষ আইন বা প্রতিদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

(খ) স্বাধীন দেশ সমূহের উপজাতীয় কিংবা আধা – উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য বৃন্দের েেত্র বাদ্য কিয় কিংবা উপনিবেশ স্থানের কালে উক্ত আধিবাসী কিংবা যে ভৌগলিক ভূখন্ডে দেশটি অবস্থিত তার আধিবাসীদের উত্তরাধিকার হওয়ার প্রেেিত স্বদেশ হাত বলে পরিগণিত এবং যারা তাদের আইনসংগত মর্যাদা নির্বিশেষে নিজেদের জাতীয় আচার ও কৃষ্টির পরিবর্তে ঐ সময়কার সামাজিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আচার ব্যবহারের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ জীবন যাপন করে।

২। এই কনভেনশনে “আধা উপ-জাতি” বলতে ঐ গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের বুঝাবে যারা (যদিও তারা তাদের বৈশিষ্ট্য হারানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে) এখনও জন সমষ্টির সাথে একিভূত হয়নি।

৩। এই অনুচ্ছেদের প্যারা গ্রাফ ১ ও ২ তে বর্ণিত স্বদেশীয় এবং অন্যান্য উপজাতীয় কিংবা আধা-উপজাতীয় জনগোষ্ঠী সমূহকে এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

 

অনুচ্ছেদ- ১৩

এই অনুচ্ছেদে ১ ও ২ উপ- অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে,

১। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রথাগতভাবে বিধিবদ্ধ জমির মালিকানা হস্তান্তর এবং ব্যবহার পদ্ধতি দেশের আইন ও বিধির আওতায় যতদুর সম্ভব, তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে এবং তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত না করে মেনে চলা।

২। সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্য নয় এমন ব্যক্তিদেরকে এসব প্রথাগত সুযোগ গ্রহণে অথবা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যদের আইন সম্পর্কিত আওতার কারণে জমির মালিকানা লাভ কিংবা ব্যবহার করা থেকেও নিবৃত্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বলা বাহুল্য যে, উক্ত কনভেনশনে বিশ্বের সমগ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন যাপন মানোন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সামাজিক নিরাপত্তার বিধি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সর্বমোট ২৯টি অনুচ্ছেদ গৃহীত হয়। অনুচ্ছেদ সমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর পদপে গ্রহণ করতে জাতি সংঘভূক্ত সকল সদস্য রাষ্ট্রের সরকারের কাছে পেশ করা হয়। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে গণ সচেতনতা ও জনমত গড়ে তুলতে জাতি সংঘ ৯ আগষ্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সালের ৯ আগষ্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপল্েয তৎকালীন জাতি সংঘ মহাসচিব কফি আনান বিশ্বের সকল আদিবাসীদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর শুভেচ্ছ বাণীতে তিনি বলেন- ঈড়সঢ়ড়ংবঃ ড়ভ ৎবঢ়ৎবংবহঃধঃরাবং ভৎড়স ৬০ঃয এড়াবৎহসবহঃং ধহফ রহফরমবহড়ঁং ঢ়বড়ঢ়ষবং. ঞযরংযরংয ষবাবষ ধফারংড়ৎু নড়ফু রং রহঃবহফ ড়ভ ধং ধ ভড়ৎঁস ভড়ৎ ফরধষড়মঁব ৎবপড়হপরষরধঃরড়হ ধহফ পড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ রহ ধষষ ধৎবধং ড়ভ পড়হপবৎহ ঃড় রহফরমবহড়ঁং ঢ়বড়ঢ়ষবং. ওঃং নৎড়ধফ সধহফধঃব রিষষ রহপষঁফব হড়ঃ ড়হষু যঁসধহ ৎরমযঃং, নঁঃ ধষংড় বপড়হড়সরপ ধহফ ংড়পরধষ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ, পঁষঃঁৎব বহারৎড়হসবহঃ, বফঁপধঃরড়হ ধহফ যবধষঃয. ওঃ রিষষ ধষষড়ি ভড়ৎ মৎবধঃবৎ রহঃবমৎধঃরড়হ ধহফ পড়ড়ৎফরহধঃরড়হ ড়ভ ঃযব টঘ’ং ড়িৎশং ধং রঃ ৎবষধঃবং ঃড় রহফরমবহড়ঁং ঢ়ড়ঢ়ঁষধঃরড়হ’ং, ধং বিষষ ধং মধঃযবৎং ধহফ ফরংঃৎরনঁঃবং রহভড়ৎসধঃরড়হ ড়হ রহফরমবহড়ঁং রংংঁবং.

 

উপরোক্ত বর্ণিত বানাতে আদিবাসী জনগণের সামাজিক সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা ও জোরদার এবং মানবাধিকার সুরার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জাতি সংঘ মহাসচিবের এমন হৃদয় কর্ষক বাণীতে বিশ্বের আদিবাসী জনগণ নতুন চেতনা ফিরে পেয়েছে এবং নিজেদের জাতি সত্ত্বার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সম হয়েছে।

 

সম্প্রতিক কালে পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ও উপজাতি বিতর্ক:

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (সমন্বয়-২) জনাব মুজিবুর রহমান “উপজাতীয় সম্প্রদায় গুলোকে আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করার তৎপরতা” শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করেছেন(২৮/১/২০১০)। উক্ত প্রজ্ঞাপন পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতীয় সম্প্রদায়কে আদিবাসী হিসেবে অভিহিত না করার জন্য বলা হয়েছে। এবং একই সঙ্গে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীগুলোকে আদিবাসী বানানোর একশ্রেণী বুদ্ধিজীবি, শিক, সাংবাদিক, আইনজীবি, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, নাট্যকার, শিল্পী, গীতিকার, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন কর্মীদের তৎপরতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। উপরোক্ত প্রজ্ঞাপন জারীর আলোকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, এখন হতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের আদিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না এবং করলে তা হবে সরকারের সিদ্ধান্ত অবজ্ঞা করার শামিল। অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করা সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীরা আদিবাসী নয় তারা উপজাতি। অপরদিকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা থাকা অবস্থায় জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আরেক শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, বাংলাদেশে চাকমা, গারো, খাসিয়া, বম, খুমি রাজবংসী, মার্মা, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, উরাও ুদ্র ুদ্র আরো অনেক জাতিসত্ত্বার মানুষ আবহমান কাল ধরে বসবাস করে আসছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধের সময় এ আদিবাসীদের অবদান ছিল গৌরবের। আদিবাসীদের গান, গল্প উপকথা, মুখেমুখে চলে আসা সাহিত্য, বৈচিত্র্যময় নেতৃ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সম্ভার আমাদের জাতীয় সম্পদ। নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর এসব সম্পদ আমাদের দেশের সংস্কৃতিকেব বৈচিত্র্যময় ও নন্দিত জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন যে অবস্থানে থাকুন না কেন এদেশের নৃতাত্ত্বিক জাতি গোষ্ঠীগুলো যে উপজাতি নয় আদিবাসী তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন বা স্বীকৃতি দিয়েছেন। উপরন্তু, মহাজোটের নির্বাচনী ইশতিহার (২০০৮) এর ১৮(১) এবং (২) অনুচ্ছেদে এদেশের নৃতাত্ত্বিক জাতি সমূহকে আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং আদিবাসী জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এতদ্ সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপনটি জারী করেছে তা এদেশের নৃতাত্ত্বি জনগোষ্ঠীগুলোকে চরমভাবে আঘাত করেছে এবং ঘোষিত নির্বাচনী ইশতিহারসহ উপরোক্ত বর্ণিত জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত দুটো বাণীর প্রতিশ্র“তির বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা আশা করবো যে, বর্তমান সরকার এদেশের ল ল আদিবাসী জনগণের মর্মবেদনা উপলব্ধি করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করে বিষয়টি চিরতরের জন্য সূরাহা করে যাবেন এবং প্রতিটি আদিবাসীদের হৃদয়ে পুজিত হবেন। কিন্তু পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওখঙ কনভেনশন ১৯৫৭ এর ১নং অনুচ্ছেদ এর “ক” উপ-অনুচ্ছেদে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে স্বাধীন দেশ সমূহের উপজাতীয় কিংবা আধা উপজাতীয় গোষ্ঠীর সদস্যদের বেলায় যাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা জাতীয় অন্যান্য, অংশের চেয়ে কম অগ্রসর এবং যাদের মর্যাদা সম্পুর্ণ কিংবা আংশিকভাবে তাদের নিজস্ব প্রথা কিংবা রীতিনীতি অথবা বিশেষ আইন বা প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় সেই সম্প্রদায়কে সমূহকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতি সংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে কনভেনশনে গৃহীত অনুচ্ছেদ সমূহ মেনে নিলে বা স্বীকৃত প্রদান করলেই পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অপরাপর অঞ্চলের বসবাসকারী নৃতাত্ত্বিক উপজাতি সম্প্রদায় সমূহ আদিবাসী হয়ে যায়। এতে রাষ্ট্রের খুব একটা বড় ধরনের সাংবিধানিক জটিলতায় পড়ে যাবার কথা নয়। এ প্রসঙ্গে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ সরকার উপজাতীয়দের সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করে না নিলেও দেশের প্রধানমন্ত্রী উপজাতীয়দের বহু আগে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত দিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী কোন ব্যক্তি বিশেষ নয়। একটি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক। কাজেই প্রধান মন্ত্রীর যেটি বলবেন সেটিই দেশের আইনের অংশ হিসেবে গণ্য হবেই। তৎকালীন সময়ের ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ সালের ৯ আগষ্ট বিশ্ব আদিবাসী উপলে তাঁর এক বাণীতে বলেন “ জাতিসংঘ ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ৯ আগষ্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন জেনে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশের ২০ ল আদিবাসীসহ বিশ্বের ৩০ কোটি আদিবাসী জনগণকে এ উপলে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি (৩ আগষ্ট ২০০০ খ্রিঃ)।

বর্তমান বিশ্বে অনেক আদিবাসী নৃতাত্ত্বিক জাতি আছের যারা দিন দিন বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্দামান নিকোবরের গ্রেট আন্দামানিক গোত্রের প্রায় লাধিক বছরের সুপ্রাচীন নৃ-গোষ্ঠীর শেষ বংশধর বোমা বিনিময়ে মারা যান সম্প্রতি। রায় মিনিয়র মারা যান সম্প্রতি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্তি ঘটে গেছে একটি গোষ্ঠী এবং পৃথিবীর মানুষ বঞ্চিত হয়েছে সেই জনগোষ্ঠীর ভাষা। সাহিত্য, সমাজ সংস্কৃতি ও ইতিহাস হতে। বাংলাদেশে যে এমনটি ঘটবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদে কতই আইনতো পাশ হয়। উত্থাপিত হয় নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ আইন। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রীসভায়/ মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয় না কেন? বিশ্বের অনেক দেশ আছে যে দেশ সমূহে পশু পাখিদের জন্যও আইন পাশ করা হয়েছে। যেমন ১৯৯২ সালে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী ও প্রশাসনিক উপ-বিভাগ (ক্যানটন) জুরিখে কোন পশু পাখি নিষ্ঠুরতার স্বীকার হলে সেই পশু পাখির পে আইনজীবি নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে জুরিখে আইনজীবির দায়িত্ব পালন করছেন অ্যান্ডোয়েন গোয়োশেল (কালের কন্ঠ- ৮মার্চ/২০১০ পৃষ্ঠা-২)। আমাদের ভাবতে অবাক লাগে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এবং কি বাংলাদেশে যদি বিপন্ন বন্য প্রাণী সংরণের জন্য আইন করা যায় তাহলে উপজাতি (?) না আদিবাসী তা আইন করে ফয়সালা করা যাবে না কেন। কালের কণ্ঠ (২১ মার্চ/২০১০) তাঁর মর্মষ্পর্শী সম্পাদকীয়তে বলেছেন আর বর্ণবাদ নয়। এতে আরো বলা হয়েছে এদেশে পাহাড়ী বাঙালী বৈষম্য। উপমহাদেশে শিয়া সুন্নি কাদিয়ানি সংঘাত ধর্মীয় দাদা এ সবই বর্ণ বাদেরই আকার প্রকার ভেদ মাত্র। কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক সাহেব হৃদয় দিয়ে উপজাতি/ পাহাড়ীদের বৈষম্যের কথাটি উপলব্দি করতে সম হয়েছেন। না হয়, এমন মর্মস্পর্শী সম্পাদকীয় উপহার দিতে পারতেন না।

 

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘটে গেছে এ ঘটনা সরকারকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, পাহাড়ী বাঙালী সংঘাতের বিষয়টি যতদিন সুকৌশলে জিঁইয়ে রাখা হবে তাতে অমঙ্গল ছাড়া মঙ্গল বয়ে আনবেনা। যতই দিন গড়াবে ততই একেকটি নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই পার্বত্য চুক্তি পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাচ্ছি আমরা। এটি আমাদের জন্য আনন্দের হলেও উপজাতি আদিবাসীদের জাতীয় স্বীকৃতির বিষয়ে কি হবে সেটি চিন্তার বিষয়ও বটে। আশা করি বর্তমান মহাজোট সরকার দেশের সকল নাগরিকের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাবেন। এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সংঘাতের অভিশাপ হতে মুক্ত রাখতে শপথ গ্রহন করবেন। আগামী পার্বত্য চট্টগ্রাম হোক শান্তির এক অভিনব ধরনীর অংশ এবং সেই সাথে অবসান হোক আদিবাসী (?) উপজাতি বিতর্ক। জয় হোক মানবতার।

 

বিদ্রঃ- এই লেখাটি ২০১০ ইং সালে বনযোগীছড়া কিশোর কিশোরী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত স্ববন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

এই বিভাগের আরো পোস্ট

Tags: